সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা গ্রহণের পর সেখানে গিয়ে নির্ধারিত কাজ না দিয়ে আটকে রেখে অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের ১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৩১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম সালমান হোসেন (৩৩)। সিআইডির মানব পাচার ইউনিট ( টিএইচবি) আজ দুপুরের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চক্রটি ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। ভুক্তভোগী এ প্রস্তাবে সম্মত হলে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরবর্তীতে তাকে ২০২৫ সালের ৭ জুলাই তাকে সৌদি পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়নি।
বরং গ্রেফতারকৃত সালমান হোসেন চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে একটি বাসায় আটকে রাখে। পরে আকামা করে দেয়ার কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে আরো টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে একটি মরুভূমি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় অন্য এক ব্যক্তির আশ্রয় নেন। পরে সৌদি পুলিশের মাধ্যমে ভুক্তভোগী আটক হন এবং পরবর্তীতে এ বছর ২২ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার (ঢাকা) থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২)/৭/৮ ধারায় মামলা দায়ের করে।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃত সালমান হোসেন মামলার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সৌদি আরবে ভুক্তভোগী তার বাসাতেই আটক ছিলেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। মামলাটির তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।










