রাঙ্গামাটির দুর্গম বরকল উপজেলায় অজ্ঞাত রোগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের চান্দবীঘাট নামে একটি পাড়ায় গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বাবা-মেয়েসহ পাঁচজনের মৃত্যুও হয়েছে। ওই এলাকায় ১২-১৪ জন একই রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরকল উপজেলার চান্দবীঘাট পাড়ায় রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল গত জানুয়ারিতে। গত ১০ জানুয়ারি একজনের মৃত্যু। তবে বিষয়টি অগোচরেই থেকে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ হিসেবে শরীরে হঠাৎ ব্যথা অনুভব, তীব্র তাপমাত্রায় জ্বর আসা ও বমি বমি ভাব। কেউ কেউ রক্ত বমিও করেছে। গ্রামের আশপাশে কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছেন স্থানীয় বৈদ্য কবিরাজদের দিয়েই। এ রোগে মারা গেছেন লবিন্দর চাকমার ছেলে পত্ত রঞ্জন চাকমা (২৫), পিদেয় চাকমার ছেলে বিমলেশ্বর চাকমা (৫৫), লবিন্দর চাকমার ছেলে চিত্তি মোহন চাকমা (৬০), মিলন শংকর চাকমার ছেলে ডালিম কুমার চাকমা (৩৫) ও ডালিম চাকমার মেয়ে সোনি চাকমা (৮)। এদের মধ্যে পত্ত রঞ্জন চাকমা ১০ জানুয়ারি, বিমলেশ্বর চাকমা ৭ ফেব্রুয়ারি, ডালিম কুমার চাকমা ২৬ ফেব্রুয়ারি, চিত্তি মোহন চাকমা ১৫ মার্চ ও সর্বশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি সোনি চাকমা নামের এক ছাত্রী মারা যান। ডালিম কুমার চাকমা ও সোনি চাকমা সম্পর্কে বাবা-মেয়ে।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন (সিএস) ডা. নীহার রঞ্জন নন্দী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ওই এলাকায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেতে আমাদের দেরি হয়ে গেছে। আক্রান্ত এলাকাটি দুর্গম, সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই। আমরা খবর পেয়েছি গত মঙ্গলবার বিকালে। সেখানকার কেউই আমাদের বিষয়টি জানায়নি। এরই মধ্যে ডাক্তারসহ ছয় সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেখানে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল টিমকে রোগের নমুনা সংগ্রহ করে আনার জন্য বলা হয়েছে। সংগ্রহ করা নমুনা আনার পর সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ‘‌আইইডিসিআর’-এ (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) পাঠানো হবে। তখন রোগের কারণ ও রোগ সম্পর্কে জানা যাবে।’