হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইমাম ও বাওয়ানী বাগানের চা শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রোকনপুর এলাকায় মহাসড়কটি তারা প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাসড়কের কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা।
শ্রমিকদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বকেয়া মজুরি পরিশোধ, বোনাস, উৎসব ভাতা, ভবিষ্য তহবিলের বকেয়া টাকা, চিকিৎসা ও স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করা।
আন্দোলনকারী চা শ্রমিকরা জানান, ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানে ৬০০ শ্রমিকের দুই বছরের বেতন বকেয়া পড়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও তাদের বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে শ্রম চুক্তি অনুযায়ী, বকেয়া বেতন পরিশোধ, উৎসব ভাতা, শ্রমিকদের চিকিৎসা ও নতুন ঘরবাড়ি তৈরিসহ সাত দফা দাবিতে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ার ও নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডালিম আহমেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা চা শ্রমিকদের মহাসড়ক ছেড়ে আলোচনায় বসতে অনুরোধ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়ে চা বাগানের মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলা ও শ্রমিকদের মধ্যে সরকারি চাল বিতরণের আশ্বাস দিলে তারা মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিসিরা ভ্যালির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুভাষ দাস বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে আমরা বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। গতকাল সাত দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করি। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও সরকারের উচ্চমহলে আলোচনা করবেন। যে কারণে তার সম্মানে ও প্রশাসনের অনুরোধে মহাসড়ক থেকে আমরা উঠে এসেছি। আমাদের দাবি না মানা হলে প্রয়োজনে আমরা আরো কঠোর অবস্থানে যাব।’
ইমাম ও বাওয়ানী বাগানের ম্যানেজার ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বাগানটি টিকিয়ে রাখার জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা করছি।’









