প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা। কৃষককে সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি আরো বলেন, ‘কৃষক যদি বেঁচে থাকে এবং ভালো থাকে তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে।’ আজ টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন শেষে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, এ দেশে প্রধান পেশা কৃষি। দেশের চার কোটি পরিবার আছে, প্রত্যেকটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সাথে সম্পর্কিত। আমরা বিশ্বাস করি এই দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, কৃষক যদি বেঁচে থাকে এবং ভালো থাকে তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে। সেজন্যই আজ কৃষক কার্ড প্রদান শুরু করেছি।

তিনি আরো বলেন, ১১টি উপজেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কৃষক কার্ড প্রদানের অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার (২২ হাজার ৬৫ জন) কৃষককে প্রথম পর্যায়ে এ কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে চাচ্ছি। নির্বাচনের পূর্বে আমরা দেশের মানুষের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার মধ্যে এই কৃষক কার্ডও ছিল। এর বাইরেও বলেছিলাম কৃষকদের জন্য সুদসহ ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করব। নির্বাচনের পর সরকারের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সেই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধাটি পেয়েছে। আজ আমরা হয়তো মাত্র ২২ হাজার কৃষককে এই কৃষি কার্ডের সুবিধা এই মুহূর্তে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে থাকা ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমিকভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সুবিধা পৌঁছে দেব।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কৃষি বিষয়ক নানা উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করলেন তিনি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিলেন। শুধু তাই নয় ২৫ বিঘা পর্যন্ত যে কৃষি জমি ছিল সেটির খাজনাও মওকুফ করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পরে কৃষকদের ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ছিল। তার মধ্যে সেচ একটি বড় সমস্যা। কৃষকরা সময় মতো পানি পেত না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে ফসলে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছিল। যে বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে মানুষ না খেয়ে দুর্ভিক্ষে প্রায় সাত থেকে আট লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল, সেই বাংলাদেশেই আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুধুমাত্র খালখনন করার ফলে কৃষক সেত সুবিধা পাওয়ায় কৃষির উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং অল্প পরিমাণে হলেও বিদেশে রফতানি করতে সক্ষম হয়েছিল।

তার দেয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের মানুষের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেগুলো পূরণে কাজ শুরু করেছি । সমগ্র বাংলাদেশে আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছর প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব ইনশাআল্লাহ। এর মাধ্যমে কৃষকের সেচের পানি পৌঁছে দিতে চাই। শুধু তাই নয় খাল খনেনর মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে বন্যার সময় যে অতিরিক্ত বর্ষণ হয় কিংবা হঠাৎ করে সীমান্তের ওপার থেকে যে পানি চলে আসে এই সমস্যাগুলোকে যাতে ম্যানেজ করতে পারি। সেই পানিকে যাতে পরবর্তী সময়ের জন্য ধরে রাখা যায় সেটিই আমাদের খাল খননের একটি লক্ষ্য। বিগত ৫০ বছর ধরে ডিপ টিউবওয়েল, টিউবওয়েল ব্যবহারের ফলে মাটির নিচের পানির স্তর অনেক নিচে চলে গিয়েছে। যা সামগ্রিকভাবে দেশ এবং মানুষের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাপার। যদি এই পানিও শেষ হয়ে যায় তাহলে প্রত্যেকটি মানুষ এই দেশে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষ কষ্ট পড়বে। সে জন্য খাল খননের মাধ্যমে নদী খননের মাধ্যমে আমরা সেই আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটি আছে সেটিকে আস্তে আস্তে রিচার্জ করতে চাই এবং আগের অবস্থায় পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চাই।

সরকারপ্রধান বলেন, কৃষক অনেক ফসল ফলায় কিন্তু সেগুলো প্রিজার্ভ করতে পারে না। দেশে কোল্ড স্টোরেজ বা সেরকম প্রক্রিয়াজাত কিছু নাই। কৃষকের ফসলটা যখন বেশি হয় তখন অনেক সময় দাম পায় না। কিন্তু আমরা যদি কোল্ড স্টোরেজ রাখতে পারি তাহলে কৃষকরা পরবর্তীতে দাম পায়। শুধু দামই পায় না, একই সাথে মানুষও সিজনের পরেও সেই ফসলটির সুবিধা পায়, খেতে পারে। সেইজন্য এরইমধ্যে আমরা বাইরের দেশের সাথেও কথা বলেছি। বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে উৎসাহী। দেশের অনেক ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত। এই বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। কৃষকদের সুবিধার জন্য আমরা কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করব।

‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেজন্যই আমরা বলে থাকি করব কাজ গর্ব দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। এই দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক আমরা রাজনীতি করি বা না করি। কৃষক হই বা না হই, আমরা ছাত্র হই না না হই, আমরা ব্যবসায়ী হই বা না হই যে পেশার মানুষই হয়ে থাকি না কেন প্রত্যেকের একটি আকাঙ্ক্ষা—নিজের দেশটিকে ভালো দেখতে চাই। নিজের দেশটিকে আমরা সুন্দর দেখতে চাই, আমরা দেখতে চাই এই দেশের মানুষ নিরাপদে বসবাস করছে, এ দেশের সন্তানেরা দেশেই বড় হচ্ছে স্বাচ্ছন্দে বড় হচ্ছে, খেয়েপড়ে ব্যবসা বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি করে নিরাপদের সাথে নিরাপত্তা সাথে বড় হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য সেটাই। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব একমাত্র যদি জনগণের সহযোগিতা থাকে। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে চলতে চাই জনগণকে পাশে রেখে চলতে চাই। জনগণকে সাথে নিয়ে সামনের দিকে বাড়তে চাই দেশ গঠন করতে চাই। আমি বাংলাদেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে দেশ গঠনের আমন্ত্রণ জানাই।