রাজধানীর কদমতলীতে ইয়ানূর আক্তার (২৫) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ওই নারীর স্বামী জিকুরুল ইসলাম ওরফে জুয়েল রানা নামে পলাতক রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে কদমতলীর ডিপটি গলির একটি বাসা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ইয়ানূরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ডিপটি গলির ৬৭০ নম্বর জিএম কাদেরের পাঁচতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সাবলেট থাকতেন ইয়ানূর ও জুয়েল। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ইয়ানূরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খালেকুজ্জামান বলেন, প্রায় তিন মাস আগে জুয়েল রানা ওই বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সাবলেট ভাড়া নেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইয়ানূরকে গলা কেটে হত্যা করে কক্ষের দরজায় তালা দিয়ে জুয়েল পালিয়ে যান।
তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। পলাতক জুয়েলকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
নিহতের ছোট ভাই ইমাম হোসেন বলেন, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে জিকুরুল ইসলাম ওরফে জুয়েলের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন তার বোন। জুয়েল পটুয়াখালীর একটি বাসে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন।
সকালে পরিবারের সদস্যরা ইয়ানূরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মা ওই বাসায় গিয়ে দরজা তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ইয়ানূরের মরদেহ উদ্ধার করে বলে জানান ইমাম হোসেন।
নিহত ইয়ানূর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া এলাকার হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।










