পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ দেশের মানুষ টানা ১৬-১৭ বছর ধরে লড়াই করেছে, রক্ত দিয়েছে, হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছে- কিসের জন্য? ভোটাধিকার আদায়ের জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তারা রক্ত দিয়েছে একটি ন্যায্য সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য। এগুলো কেবল তখনই সম্ভব, যখন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

ঐক্যমত্য কমিশন চলমান থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক বিক্ষোভকে স্ববিরোধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন আগামীকাল তার পরবর্তী সভা ডেকেছে। এ আলোচনা চলমান থাকাকালীন একই দাবির জন্য রাজপথে বিক্ষোভ ঘোষণা করা কতটা উপযুক্ত তা জনগণ বিবেচনা করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিম্নকক্ষের নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে কোনো আলোচনা হয়নি। যারা এখন নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির দাবিতে আন্দোলন করছে, তারাও ওই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, এখন যদি কোনো রাজনৈতিক দল মাঠে এ দাবি উত্থাপন করে, তাহলে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের বিরোধী মতামতও প্রকাশ করব। আমরা এরই মধ্যে বলেছি, আমরা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নিম্ন বা উচ্চকক্ষে পিআর ব্যবস্থা চাই না। আমরা কেন এটি চাই না তার যুক্তিও দিয়েছি।

তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে সরকারের ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা খুব কঠিন হয়ে যায়। ফলে অস্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্থায়ীভাবে জোটভিত্তিক সংসদ ও সরকার গঠিত হয়। এতে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।