সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ এবং কলকাতায় খুন হওয়া সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম বর্তমান সরকারেরই চেহারা বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। সোমবার ( ৩ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, কয়েকদিন যাবত আপনারা পত্রিকা খুললেই দেখতে পারবেন বেনজীরের নজিরবিহীন দুর্নীতি। একইসঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ তাকেও স্যাংশন দেয়া হয়েছে। একজন এমপিকে পার্শ্ববর্তী দেশে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। এ হলো সরকারের চেহারা।
সরকার দেশটাকে ধ্বংস করে ফেলেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন বলেন, এখন সেনাবাহিনীর অবস্থা কী? বাহিনী হিসেবে তার সম্মান-ইজ্জত কোথায় থাকে, যখন তার সাবেক সেনাপ্রধানকে স্যাংশন দেয়া হয়। পুলিশ বাহিনীর মান-ইজ্জত কোথায় থাকে, যখন তার সাবেক আইজিপিকে পালিয়ে যেতে হয় দেশ থেকে। অর্থাৎ এ সরকার দেশটাকে ধ্বংস করে ফেলেছে।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা বার বার বলি, সাহস থাকলে আসেন না একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করেন। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নির্বাচন হবে, কার কত জনপ্রিয়তা বোঝা যাবে। এ সরকারের শাসনকালে দলীয় সরকারের অধীনে তিনটা নির্বাচনেই প্রহসন হয়েছে। এরা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। গত ১৫ বছরে একটা দানব সরকার সবকিছু ধ্বংস করেছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছি। জেল খাটছি। আমরা বার বার জেলে যাচ্ছি, কিন্তু আমরা এখনো চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারিনি। এ চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য আমাদের সংগঠনকে আরো দৃঢ় করতে হবে, নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে দূর করে ফেলতে হবে। সবাই মিলে একসঙ্গে এক জোটে নামতে হবে। কারণ এটা বিএনপির সমস্যা না, এটা বাংলাদেশের সমস্যা। এটা জাতির সমস্যা, এ জাতি ভবিষ্যতে টিকবে কি টিকবে না, আপনার ছেলেরা ভবিষ্যতে চাকরি পাবে কি পাবে না, তারা স্বাধীনভাবে চলতে পারবে কি পারবে না, তার পুরোটাই নির্ভর করছে এ সরকারকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পরাজিত করতে না পারা পর্যন্ত।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক দলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা এনেছিলেন। একটা দল নয়, সব দল রাজনীতি করবে। তার আমলে এ আওয়ামী লীগ দরখাস্ত করে, নতুন করে অনুমোদন নিয়ে দল গঠন করেছিল। এ হচ্ছে আওয়ামী লীগ।










