প্রকৃতিতে শীত আসতে এখনো কয়েক মাস বাকি। মৌসুম শুরুর আগেই এ বছর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় আড়াই হাজার টন আগাম সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আগামীতে প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ালে আগাম সবজি চাষে আগ্রহ আরো বাড়বে বলে মনে করেন কৃষক। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, সবজি চাষে কৃষককে পরামর্শ ও প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শীত মৌসুমে উপজেলায় ৩৮৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারে চাহিদা থাকায় মৌসুম শুরুর আগেই কৃষক আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। উপজেলার ১০০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিমসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নটাপাড়া গ্রামের কৃষক রুবেল মোল্লা এ বছর ১৪ শতাংশ জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে ৮০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরো ৮০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জামালপুর ইউনিয়নের হঠাৎপাড়ার কৃষক নিহার প্রামাণিক বলেন, ‘কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে আগামীতে এ অঞ্চলে আগাম সবজি চাষ আরো বাড়বে। আগাম সবজি একটি বাড়তি ফসল। এ ফসল ঘরে তোলার পর শীতকালীন সবজি আবাদ করা যায়। এ কারণে এর দামও বেশি পাওয়া যায়।

একই এলাকার কৃষক অজিৎ প্রামাণিক বলেন, ‘‌এ বছর বৃষ্টিতে কিছু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার পরও তারা লাভবান। কারণ এখন বাজারে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। উৎপাদন একটু কম হলেও দাম বেশি।’

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর শীত মৌসুম শুরুর আগেই বালিয়াকান্দি উপজেলায় ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ আগাম সবজি চাষ হয়েছে। এ থেকে ২ হাজার ৫০০ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এসব সবজির বাজার মূল্য অন্তত ১৫ কোটি টাকা।’