টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুইবার সাক্ষাৎ হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধী দলের নেতার সরকারি বাসভবনে তার আমন্ত্রণে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে। এ সময় দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সংগঠনটি।

বৈঠকে বিটিএমএ জানায়, টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে সংগঠনটির প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুইবার সাক্ষাৎ করেছে। সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী টেক্সটাইল শিল্পের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

বিটিএমএর পক্ষ থেকে জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী রফতানি সক্ষমতা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রফতানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিতকরণ, দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা সংরক্ষণ, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও সংরক্ষণ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধের বিষয় রয়েছে।

বৈঠকে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান টেক্সটাইল শিল্পের অবদান ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে সরকারের টেক্সটাইল-সম্পর্কিত উদ্যোগ ও নীতি সহায়তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে টেক্সটাইল খাতের সমস্যাগুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করার আশ্বাস দেন।

বিটিএমএর প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করার আশ্বাসও দেন তিনি। একটি সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমে দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে টেকসইভাবে শক্তিশালী করা এবং রফতানি সক্ষমতা ও শিল্পভিত্তি আরো সুদৃঢ় করা সম্ভব বলে মত দেন ডা. শফিকুর রহমান।

সাক্ষাৎ শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর ও শুল্ক এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বিটিএমএর ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব সমস্যা নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে এবং কিছু সমস্যা এরই মধ্যে সমাধান হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলো নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বৈঠকে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসেন মেহমুদ, পরিচালক শাহিদ আলম, পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সাবেক পরিচালক মোশারফ হোসেন, সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।