জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ২০২৬ থেকে ২০৩০ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ শুধু প্রজাতি রক্ষার বিষয় নয়। এর সঙ্গে প্রতিবেশ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, স্থানীয় জীবিকা ও মানুষের অংশগ্রহণও সরাসরি যুক্ত। তাই জাতীয় পর্যায়ে নির্ধারিত ২৩টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান।

গতকাল চট্টগ্রামের হোটেল দ্য পেনিনসুলায় ‘কুনমিং-মন্ট্রিয়ল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামোর আলোকে হালনাগাদকৃত জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার, পরিচালক মোহাম্মদ হাসান হাসিবুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক সোনিয়া সুলতানাসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সরকারি দপ্তর ও সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য প্রণীত ২৩টি জাতীয় লক্ষ্যের মধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার, সংরক্ষিত এলাকা, প্রজাতি পুনরুদ্ধার, আগ্রাসী বিদেশী প্রজাতি নিয়ন্ত্রণ, দূষণ কমানো, জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই কৃষি, মৎস্য ও বন ব্যবস্থাপনা, প্রতিবেশ ব্যবস্থার সেবা এবং নগর জীববৈচিত্র্যের বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য থেকে পাওয়া সুবিধার ন্যায্য বণ্টন, টেকসই উৎপাদন ও ভোগ্য, অর্থায়ন, তথ্য, সক্ষমতা বৃদ্ধি, অংশগ্রহণ ও নারী-পুরুষের সমতার বিষয়ও রাখা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতায় অর্থায়নের ঘাটতি, দুর্বল পর্যবেক্ষণ, সীমিত তথ্য, আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পর্যাপ্ত অংশগ্রহণের ঘাটতি দেখা গেছে। নতুন পরিকল্পনায় এসব সীমাবদ্ধতাকে দূর করে বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জাতীয় জীববৈচিত্র্যের ২৩টি লক্ষ্যের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী, সমুদ্র, বনসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় করে উদ্যোগ নিলে জাতীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সহজ হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’