জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে নতুন করে ঋণের বোঝা নেয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় অর্থায়ন ঋণের বদলে অনুদানভিত্তিক হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পার্সুইং ক্লাইমেট জাস্টিস থ্রু ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অ্যাকশন ফর পলিটিক্যাল এমপাওয়ারমেন্ট, ব্রাইটার্স, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের দিক থেকে দেশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ ভূমি স্থায়ীভাবে তলিয়ে যেতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

শামা ওবায়েদ বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ২ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ঢাকায় আসছে। তারা শুধু ঘরবাড়িই নয়, নিজেদের পুরো অর্থনৈতিক ভিত্তিও হারিয়েছে। বাড়তে থাকা লবণাক্ততা তাদের খাদ্যনিরাপত্তা ও পানির নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করছে।

তিনি বলেন, কপ২৭-এ সম্মত এবং কপ২৮-এ কার্যকর হওয়া লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে পৌঁছানো ও সহজলভ্য হওয়ার ক্ষেত্রে এখনো ধীরগতি রয়েছে। একই অবস্থা গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ডসহ অন্যান্য জলবায়ু তহবিলের ক্ষেত্রেও।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন অংশীদারদের প্যারিস চুক্তির আওতায় এবং কপ২৯-এ পুনর্ব্যক্ত প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি ও অনুদান আকারে পূরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অভিযোজন অর্থায়নকে প্রশমন অর্থায়নের সমান গুরুত্ব দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ নিজেদের স্থিতিস্থাপকতায় বিনিয়োগ করছে। তবে এসব প্রচেষ্টা সংকটের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী পক্ষগুলোর দায়িত্বের বিকল্প হতে পারে না। বাংলাদেশের দৃঢ়তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুত সহায়তার সামঞ্জস্য থাকা উচিত।

জ্যেষ্ঠ সম্প্রচার সাংবাদিক হাবিব রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের নেতারা অংশ নেন।