মিনতি বালা, নজরুল ইসলাম কিংবা মিজানুর রহমানের মতো অনেক ‘মৃত মানুষ’
নিজেকে জীবিত প্রমাণের চেষ্টায় ঘুরছেন সরকারি দপ্তরে। ঘটনা দিনাজপুরের হিলিতে। হিলির অনেক বাসিন্দা বাস্তবে জীবিত হলেও হালনাগাদ ভোটার তালিকায় তারা মৃত! সরকারি খাতায় মৃত অথচ জীবিত মানুষগুলো নানা বিড়ম্বনা ও সুযোগবঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস এবং ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী হাকিমপুর উপজেলায় ২৫-৩০ জন জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হয়েছে। সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন আটজন। এছাড়াও বিভিন্ন ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য অনেকে ঘুরছেন নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে।
হিলির খাট্টাউছনা হিন্দুপাড়া গ্রামের মিনতী বালা বণিক বার্তাকে বলেন, আমি এখনো জীবিত আছি কিন্তু ভোটার তালিকায় আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এজন্য আমি কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারিনি। আমরা গরিব মানুষ। কাজকর্ম করে খাই। সরকারি ১০ টাকা কেজির চাল পেতাম। সেটিও আর পাচ্ছি না এ ঝামেলার কারণে। কোনো এনজিও বা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কিছু করব সেটিও পারছি না, সবাই বলছে আপনি মৃত। আমি চাই, আমি যেমন জীবিত আছি, তেমনিভাবে কাগজেও জীবিত করা হোক। যেন ভোটটা দিতে পারি।
হিলির পালপাড়া গ্রামের সাবেক যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, আমি এখনো জীবিত আছি, আল্লাহপাক এখনো আমাকে তুলে নেয়নি। কিন্তু নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে দেখি আমি মৃত। ভোটটাও দিতে পারিনি। বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে। খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি পঙ্গু মানুষ। আল্লাহপাক প্যারালাইজড করে রেখেছেন। আমি বয়স্ক ভাতা পেতাম। তা দিয়ে ওষুধসহ অন্যান্য খরচ মেটাতাম। কিন্তু ভোটার তালিকায় মৃত হওয়ার কারণে সেটিও পাচ্ছি না।
নজরুল ইসলাম আরো বলেন, নির্বাচন অফিসে যারা কাজ করছে তাদেরকে অফিসে পাওয়া যায় না। যিনি বর্তমানে দায়িতে আছেন, উনি মানুষের সাথে ভালোভাবে ব্যবহার করেন না। আজ দুই মাস হলো কাগজপত্র ঠিক করতে দিয়েছি। টাকা-পয়সা দিতে পারি না বিধায় আমাদের কাজ হয় না। আমি চাই আমার এ সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হোক। যাতে বয়স্ক ভাতাটা অন্তত পাই।
ভোটার তালিকায় মৃত আসায় আরো বড় বিপদে পড়েছেন হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের মিজানুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আমি একজন পেঁয়াজের ব্যবসায়ী। হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করি। ব্যাংকের মাধ্যমে অনেক টাকা-পয়সার লেনদেন করতে হয়। ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করতে গেলে এনআইডি কার্ড লাগে। পাসপোর্ট করতে গেলেও লাগে। আমি কিছুই করতে পারছি না। নির্বাচন অফিসে কাগজপত্র জমা দিয়েছি ঠিক করার জন্য।










