এগুলো যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হওয়া গণহত্যা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব মামলায় হাজার হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ডিসিদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে, জেলাওয়ারি কতগুলো মামলা হয়েছে। এগুলো রিমোট জেলায় হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে একটু বেশি। যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।’
যাচাইয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখবেন প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা। যাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তাদের নিষ্কৃতি দেয়া হয় সে সুপারিশ করা হয়েছে।’ পুরো প্রক্রিয়াটি আইনিভাবে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া মামলাগুলো নিয়ে তথ্য পাঠাতে ডিসিদের কত দিন সময় দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘যথাশিগগির’। তবে মৌখিকভাবে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। কেউ যদি দেরি করে থাকে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেটাও বিবেচনা করা হবে।
এদিকে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন গতকাল শেষ হয়েছে। এবারের সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন হয়। এতে ডিসিদের দেয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। গত ৩ মে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলন শুরু হয়।
সম্মেলনের ধারাবাহিক অধিবেশনগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, আইন-শৃঙ্খলা, প্রযুক্তি, ভূমি ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন, পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে জেলা প্রশাসকদের জন্য একগুচ্ছ দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে আরো কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করতে একাধিক নির্দেশনা নিয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন ডিসিরা।
একটি অধিবেশন শেষে গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। এ বিশাল পরিমাণ অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনে মামলা ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নীতিবহির্ভূতভাবে দেয়া লাইসেন্সগুলো জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।










