চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীনস্থ অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলসের (ওটিইএক্সএ) পরিসংখ্যানে এ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

এতে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম মাসে বিশ্ব বাজার থেকে ৬২২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ কম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অর্থমূল্য বিবেচনায় এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি পোশাক আমদানি করেছে ভিয়েতনাম থেকে। এরপরই আছে বাংলাদেশ, চীন, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভারত। অর্থমূল্য বিবেচনায় জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস হলেও আমদানি কমেছে বাংলাদেশ থেকে।

তথ্য বলছে, জানুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে ৭৯ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় কম। গত বছরের অক্টোবরে ৬৫ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নভেম্বরে তা ছিল ৫১ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ডলার ও ডিসেম্বরে ছিল ৫৯ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির শীর্ষ উৎস দেশ ভিয়েতনাম। জানুয়ারিতে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করেছে ১৪৮ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পোশাক। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেশি।

পোশাক আমদানির তৃতীয় শীর্ষ উৎস চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৬২ দশমিক ৩২ শতাংশ। জানুয়ারিতে দেশটি থেকে ৬০ কোটি ৩৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভারত থেকেও পোশাক আমদানি কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের। ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র পোশাক আমদানি করেছে ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যদি দেখেন, গত তিন-চার মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ আমদানি করেছে, সে তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমদানি বেড়েছে। বরং এ মাসে বাকি উৎসগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির পরিমাণ যতটা কমেছে, সে হিসাবে বাংলাদেশ থেকে আমদানি ভালো হয়েছে। গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় এ হার বাংলাদেশের জন্য খুব ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি না হলেও, আগের বছরের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এ ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য বলে আমি মনে করি।