গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিসিই)।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা তো একটুতেই অস্থির...আজকে পাঁচ মাসও হয়নি, এই সরকারকে এখনই বলছি যে সরকার ব্যর্থ...এটা আসলে এত অসহিষ্ণুতা, ভীষণভাবে অসহিষ্ণুতা।’
টেকসই গণতন্ত্রের জন্য ধৈর্য ও পরমতসহিষ্ণুতা জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তাই অল্প সময়েই সরকারকে ব্যর্থ বলা, রাজপথে নেমে অস্থিরতা তৈরি করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যারা বলছেন সরকারকে পাঁচ বছর পার করতে দেবেন না, শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে তাদের কথার কোনো পার্থক্য নেই।’
সংবাদমাধ্যমের সংকট ও মালিকদের নির্ভরশীলতা প্রসঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক সম্পাদককে কোনো আগাম নোটিস ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের এসব সংকট কাটাতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।’
গণমাধ্যম মালিকরা ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমকে সমৃদ্ধ করতে মালিক, সরকার, বিজ্ঞাপনদাতা ও পাঠকের মধ্যকার জটিল সম্পর্ক বুঝতে হবে। দেশে বেসরকারি ব্যবসা ও উৎপাদন না বাড়লে বিজ্ঞাপন আসবে না, যা সংবাদশিল্প টিকে থাকার প্রধান ভিত্তি।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন টিসিইর সদস্য সচিব সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন টিসিইর আহ্বায়ক আব্দুল হাই সিদ্দিক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
আরো বক্তব্য দেন যমুনা টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফকরুল আলম, এখন টেলিভিশনের সিইও আখতারুজ্জামান বাবু প্রমুখ।










