সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় গতকাল কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মিলকারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এ পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের ঘাটতি মেটানোর অন্যতম উপায় দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো। অতীতে দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের মাটির নিচে গ্যাস অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বাপেক্স ও বাপেক্সের অধীন বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোও এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তবে অনুসন্ধান করে কবে কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ রয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সেটি তৈরি করতে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে একটি বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতির কারণও ব্যাখ্যা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত ৫-১০ দিনে পরিস্থিতি কিছুটা বেশি খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল দুটি এফএসআরইউর একটি থেকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা এবং অন্যটির বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়া। এরই মধ্যে একটি এফএসআরইউতে আবার গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে এবং অন্য এফএসআরইউর একটি বয়লার মেরামত করা হয়েছে। আরেকটি বয়লার মেরামতের কাজ চলছে।’ দুটি এফএসআরইউ থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি প্রায় এক মাস আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতি স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘গ্যাসের সংকটে শিল্প-কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার।’
গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায় উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শীতকালে একই সময় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে অনেক কম থাকে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে আগের বছরগুলোর একই সময়ের বিদ্যুৎ ও লোডশেডিংয়ের পরিসংখ্যানও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।’










