উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় আনুমানিক প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে খুবই সীমিত পরিসরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ভোট কারচুপির চেষ্টায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। গতকাল আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘১ হাজার ১৫২ জন প্রার্থী ছিলেন। ইভিএমে ১৬ উপজেলায় বাকিগুলো ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক তৎপর ছিল। খুবই সীমিত পরিসরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ভোট কারচুপির চেষ্টায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। দুজনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছে। একজন প্রিসাইডিং অফিসার অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।’

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে স্থগিত হওয়া ২৩ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৯ জুন ২০ উপজেলায় ভোট গ্রহণ হবে। আর তিন উপজেলায় ভোট হবে ৫ জুন। গতকাল ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ১৮টি উপকূলীয় জেলা ও একটি পার্বত্য উপজেলার ভোট স্থগিত করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চাঁদপুরের দুটি উপজেলা এবং সড়ক যোগাযোগ সমস্যার কারণে খালিয়াজুড়িতে নির্বাচন স্থগিত করেছিলাম। মোট দুবারে ২২টি উপজেলার ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। এছাড়া মামলাজনিত কারণে চান্দিনার ভোট স্থগিত করা হয়েছিল।’

তিনি জানান, তফসিল অনুযায়ী চান্দিনা উপজেলা পরিষদের ভোট হবে ৫ জুন। এছাড়া চাঁদপুরের কচুয়া ও ফরিদগঞ্জের ভোটও ৫ জুন হবে। বাকি ২০টি উপজেলার ভোট হবে ৯ জুন। উপজেলা ২০টি হলো—বাগেরহাট জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলা; খুলনা জেলার কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া; বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া; পটুয়াখালী জেলার সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকি; পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া; ভোলার লালমোহন, তজুমদ্দিন; ঝালকাঠির রাজাপুর, কাঁঠালিয়া; বরগুনার বামনা, পাথরঘাটা, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলা।

গতকাল সকাল ৮টা থেকে দেশের ৮৭ উপজেলায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে টানা বিকাল ৪টায় শেষ হয়। এর মধ্যে ১৬টিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং বাকিগুলোয় ব্যালটে ভোট হয়। তবে তফসিল ঘোষণা হয় ১১২টি উপজেলায়। ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে ২২ উপজেলার ভোট স্থগিত করা হয়। এছাড়া একটি উপজেলায় সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। মৃত্যু ও মামলাজনিত কারণে আরো দুটি উপজেলার ভোট স্থগিত করা হয়।