নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে সচিব জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, আরপিওতে যেভাবে আছে সেভাবেই আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হবে।

গতকাল কমিশনের ১২তম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ইসি সচিব জানান, ২০০৯ সালের পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার—সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত আইনগুলো নিয়ে আলোচনা করা রয়েছে। সেখানে কিছু জায়গায় পরিবর্তন আনা দরকার বলে কমিশন মনে করছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশগ্রহণ করতে অযোগ্য সে সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। যারা লাভজনক পদে আছেন তারাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। দ্বৈত নাগরিকরা পারবেন না। ঋণখেলাপি ও তাদের জামিনদাররাও প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন। এছাড়া ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন। এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

ঋণখেলাপিদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা তো আছেনই, যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার একটা প্রস্তাবনায় আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি বিলখেলাপি, যেমন ধরুন—আপনার ইলেকট্রিসিটি বিল, ভূমি কর, ওয়াসা এ ধরনের যেসব সেবা প্রদানকারী সংস্থা, সেখানে যদি কোনো বিলখেলাপি থাকে, সেটা ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। বিলখেলাপি হলে তা অযোগ্যতা হিসেবে আসবে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘আইন সংশোধনের বিষয়গুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠাব, তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবেন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন আজই চূড়ান্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রাখি না, আমরা আইনের কিছু প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের।’