তিন দফা দাবির আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের জেরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনঢ় অবস্থান নিয়ে তারা আজ রোববার সকাল থেকেই এ কর্মসূচি শুরু করেছেন।
সে সঙ্গে, দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করে শাহবাগে শিক্ষকদের পদযাত্রায় কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও লাঠিচার্জের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ। আজ সংগঠনের পক্ষে শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর কথা। সে হিসেবে, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষকরা ১৫ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা জানালেও, গতকাল শনিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের হামলার প্রতিবাদে নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষকরা কর্মবিরতি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
শিক্ষকদের তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে সহকারী শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেড করা, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি এবং চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেয়া।
গতকাল বিকালে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষকদের পদযাত্রায় কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও লাঠি নিয়ে চড়াও হয় পুলিশ। শিক্ষকরা জানান, শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ চত্বর অভিমুখে পদযাত্রা ও প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষরের জন্য কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে কলম সমর্পণের কর্মসূচি ছিল তাদের। গণগ্রন্থাগারের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দিলে তারা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এরপর লাঠিপেটার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে দাবি তাদের। তবে পুলিশের দাবি, শিক্ষকরা বাধা উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে এগোতে চাইলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সদস্যরা পদক্ষেপ নেন।








