বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নে চুউইরংমা মারমা (৪৫) নামের এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার আলেচু মহিলা কারবারিপাড়া এলাকার গহিনে এ ঘটনা ঘটে। জুমখেতের পাশে গাছ কাটা শ্রমিকরা ধর্ষণের পর গলা কেটে ওই নারীকে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পুলিশ জানায়, চুউইরংমা মারমাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিন সকালে চুউইরংমা নিজ জুমখেতে হলুদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম কয়েকটি এলাকার মধ্যে এটি একটি। গতকাল বান্দরবান সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে রোয়াংছড়ি থানায় একটি মামলা করেছেন।

নিহত নারীর ছেলে ও মামলার বাদী বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে হলুদ তোলার জন্য আমার মা কলাপাতা মোড়ানো ভাত (দুপুরের খাবার) নিয়ে বাসা থেকে জুমখেতে যান। আমাদের জুমের পাশে গাছ কাটার কাজ করছিল সুমেশ তঞ্চঙ্গ্যার চারজন শ্রমিক। কিন্তু  বিকাল পার হলেও মা বাসায় ফিরে না আসায় বাবা খোঁজ করতে যান। সন্ধ্যার আগে বাবা ফিরে এসে মাকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয় পাড়াবাসীকে জানান। এরপর পাড়াবাসী মিলে মায়ের সন্ধানে নামে। রাত ৮টার দিকে জুম ঘরের নিচে একটি ঝিরির পাশে মায়ের মরদেহ দেখতে পায়। খবর দেয়া হলে রাত ১১টার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

ওই এলাকার একটি বাগানের মালিক সুমেশ তঞ্চঙ্গ্যা জানান,  কয়েকদিন ধরে চারজন শ্রমিক তার বাগানের গাছ কাটছিল। তারা হলেন চক্ষুলালপাড়ার খোরাইন্যা তঞ্চঙ্গ্যা (২৮), রফিক তঞ্চঙ্গ্যা (৩৮), পাকখুম তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫) ও ওয়াগয়পাড়ার যুগোলো তঞ্চঙ্গ্যা (৩৬)। কিন্তু বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে হঠাৎ তিনজন ফিরে আসেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে খোরাইন্যাও ফিরে আসেন। পরে রাত ৩টার দিকে আমার বাসায় এসে শ্রমিকদের বিষয়ে খবর নেয় পুলিশ। এরপর পুলিশের সঙ্গে ওই চারজনের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান।