পাটশিল্পের উন্নয়ন এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরো কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং শিগগিরই আন্তর্জাতিক পাট এক্সপো আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের পাটখাতের কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি ও রফতানি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এ ঘোষণা দেন।

সভায় দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পাট অধিদপ্তর, পাটশিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভার শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি পাটখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সোনালী আঁশের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর সহায়তায় অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে পাট ও পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে জোর দেন।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এ উদ্যোগের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি পাট উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে সরকারের দুই মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ জাতীয় পর্যায়ে পাট প্রদর্শনীর কর্মপন্থা প্রণয়ন, পাটশিল্পের উন্নয়নে বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ, পাটের জন্য গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন, এ শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মিল আধুনিকায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক পাট এক্সপোতে দেশী-বিদেশী ক্রেতা, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে পাটের বাধ্যতামূলক ডিসপ্লে সেন্টার ও গিফট শপ স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত স্কুলব্যাগ তৈরির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশীয় পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় পাটকে একটি আধুনিক শিল্পে রূপান্তর, কৃষকের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশকে জলবায়ুবান্ধব পাটভিত্তিক সমাধানের একটি বিশ্বস্ত বৈশ্বিক উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।