সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই খন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শতবর্ষ পার করলেও নির্মাণ হয়নি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। শ্রেণীকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনে চলছে বিদ্যালয়টির পাঠদান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির পুরনো ভবনে তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর একটি কক্ষ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন। বাকি একটি কক্ষে পালা করে চলে পাঠদান। অন্য কক্ষটি একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী। প্রয়োজনীয় শ্রেণীকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই খন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯১৯ সালে। স্কুলের তিন কক্ষবিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণ করা হয় ২০০৫ সালে। এ ভবনের বিম ও কলামে ফাটল ধরেছে, ছাদের ঢালাই ও পলেস্তারা খসে পড়ছে। অবকাঠামো নির্মাণের মাত্র ১৭ বছরেই ভবনটি পরিত্যক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বেলকুচি উপজেলা এলজিইডির সার্ভেয়ার পরিদর্শন করে বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রতিবেদন দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের বারবার অবহিত করলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মরিয়ম ও চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী লিমা বলে, আমরা স্কুলে ক্লাস করতে পারি না, মাথার ওপর খোয়া বালি পড়ে, ভয় করে, বিল্ডিং মাথার ওপর ভেঙে পড়ে কিনা। আমাদের স্কুলে সুন্দরভাবে ক্লাস করতে নতুন বিল্ডিং প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত প্রামাণিক বলেন, বিদ্যালয়টি শতবর্ষ অতিক্রম করেছে। বিদ্যালয়ে ১৮২ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। ২০০৫ সালে তিন কক্ষবিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ভবনটিতে ফাটল ধরায় এরই মধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম। এতে সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খন্দকার আশরাফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি অযত্নে অবহেলায় রয়েছে। পুরনো একটি জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঝড়-বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বারবার অবহিত করলেও এখনো এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি পাঠদানসহ শিক্ষা কার্যক্রম ভালোভাবে অব্যাহত রাখতে দ্রুত বিদ্যালয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, আমরা এরই মধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে, নিলামের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।









