প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপক আস্থা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারও ভালো কাজ করছে—জনমত জরিপ চালিয়ে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। মার্কিন ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে রিপাবলিকান পার্টি-ঘনিষ্ঠ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইআরআই পরিচালিত এ জরিপ দেখাচ্ছে, ৬৯ শতাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর এবং ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট।
‘ন্যাশনাল সার্ভে অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ জরিপ গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পরিচালনা করা হয়। আইআরআইয়ের পক্ষে ‘সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ’ দেশজুড়ে এ জরিপ পরিচালনা করে। আইআরআইয়ের ওয়েবসাইটে গতকাল সোমবার জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ২০১৮ সালে আইআরআই জরিপ চালিয়ে দেখতে পেয়েছিল, ৬৪ শতাংশ মানুষ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর সন্তুষ্ট এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থাবান ছিলেন ৬৬ শতাংশ মানুষ।আইআরআইয়ের ২০২৩ সালের জরিপে দেখা গিয়েছিল, দেশের অর্ধেক মানুষ দেশের তৎকালীন গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিকে ‘ভালো’ বলেছিলেন। তার পরের বছর ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বছর পার করার পর নতুন জরিপ করল আইআরআই।
জরিপে ৪ হাজার ৯৮৫ জন অংশগ্রহণ করেন, যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশের আটটি বিভাগের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তবে রাঙামাটি জেলা থেকে কোনো নমুনা বাছাই করা হয়নি। জরিপকারীদের দাবি, এ জরিপের আস্থার পরিমাণ ৯৫ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৪ শতাংশ এদিক-সেদিক হতে পারে।
জরিপে দেখা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহও অনেক। ভোট দিতে খুবই আগ্রহী বলে জানিয়েছে ৬৬ শতাংশ ভোটার, আর ২৩ শতাংশ কিছুটা আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে বিশ্বাস করেন জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ লোক।
আইআরআই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র পরিচালক জোহান্না কাও বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে মানুষ অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন। তার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের এই আস্থা স্থিতিশীলতা, জবাবদিহি ও সংস্কারের ব্যাপক প্রত্যাশা তুলে ধরে।’
পরিচালক কাও আরো বলেন, ‘বাংলাদেশীদের এই উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রমাণ করে সংস্কার প্রক্রিয়া ধরে রাখা এবং নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ আইআরআই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে জনমত জরিপ পরিচালনা করে থাকে এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল ও ইস্যুভিত্তিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করছে।










