জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিদেশগামী কর্মীদের ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে— এ অনিয়মের কথা সরাসরি স্বীকার করলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
আজ বুধবার রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ভবনের বিজয় একাত্তর হলে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএমইটি থেকে কিছু ছাড়পত্র পেয়ে যায়, কিন্তু সেটা আসলে প্রপার চেকিংটা কোন কারণে হয় নাই— এ ধরনের ঘটনা আমি দেখেছি। তিনি জানান, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি এ চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে তদবির আসে। সরকারের ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সিস্টেম (ওইপি) এবং দূতাবাসের মাধ্যমে ভেরিফিকেশনের বিধান থাকলেও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। অনিয়ম বন্ধে মন্ত্রী পর্যায়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন সচিব নিয়োগের পাশাপাশি বিএমইটির মহাপরিচালক ও ওয়েজ বোর্ডের মহাপরিচালক পদেও সম্প্রতি পরিবর্তন হয়েছে।
মন্ত্রণালয় কিংবা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কোনো দফতরের দুর্নীতির দায় নেয়া হবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ডিজি, বিএমইটির ডিজিসহ আমরা সব কর্মকর্তাদের পরিষ্কারভাবে বলেছি, আমরা আপনাদের কোনো অন্যায়ের দায় কিংবা অপবাদ নিতে চাই না। কারণ আমাদের রাজনীতি করতে হবে, আমাদের জনগণের কাতারে দাঁড়াতে হবে। তখন তো জনগণই বলবে, তুমি দায়িত্বে থাকাকালীন কেনো এ কাজ হয়েছে। এটা তো আমাদেরই ব্যর্থতা। যদি এ ব্যর্থতা দূর করতে না পারি তাহলে এখান থেকে সরে যাব। যদি মনে করি, আমি ব্যর্থ হচ্ছি তাহলে বিনয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে আমি বলে দেব, আপনাকে ধন্যবাদ, আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু এখানে থেকে আমি কাজ করতে পারছি না।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএমইটির স্মার্টকার্ড নেয়ার ক্ষেত্রে সমস্ত কাগজপত্র সম্পন্ন হওয়ার পরেও কর্মীদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। যদি আমরা বলি, আমরা জানি না বা বন্ধ করতে পারছি না — তাহলে তো সেটা ব্যর্থতা। যদি না পারি, তাহলে এখান থেকে সরে যাওয়া উচিত।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে নুরুল হক বলেন, আমাদের ১১০টা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, আরো ৫০টা হবে। কিন্তু আসলেই এতো জায়গায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা সেটা যাচাই-বাছাই করা হয় নাই। প্রকৃত অর্থে ১১০টা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকলেও অনেক জায়গায় প্রশিক্ষণ করানোর মতো প্রশিক্ষক নেই। আবার সংসদ অধিবেশনে অনেক এমপি ডিউ লেটার পাঠিয়েছেন। কিন্তু এগুলো যদি যাচাই করা হয় তবে দেখা যাবে তাদের অনেকের স্থানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রয়োজন নেই। তারপরও রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদেরকে অনুমোদন দিতে হয়। তবে আমরা এখন চেষ্টা করছি চাহিদা মতো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে সুসজ্জিত করতে।
রিক্রুটিং এজেন্সির কাজের মূল্যায়নের ওপর গ্রেডিং দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রতারণা কিংবা অনিয়ম বন্ধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ক্ষেত্রে আইন এবং বিধি অনুযায়ী গ্রেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের কাজের মূল্যায়ন করে আমরা একটা গ্রেড দিব। যাতে মানুষ বুঝতে পারে কোন কোম্পানি ভালো এবং সুবিধাদায়ক।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের রিজিওনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজিয়া হায়দার, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বিলস’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, ওকাপ নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওকাপ চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম।










