ধর্ষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে বিচার এবং আন্দোলনকারীদের নামে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দেশের ২১০ বিশিষ্ট নাগরিক। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশের হামলা-বাধা ও মামলার তৎপরতা বন্ধ করে বিভিন্ন অপশক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৬ মার্চ) ২১০ নাগরিক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১১ মার্চ দুপুরে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে ৯ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে গণপদযাত্রা ও স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি ছিল। ওই কর্মসূচিতে নারীদের ওপর পুলিশ নগ্নভাবে আক্রমণ করেছে, কোনো নারী পুলিশের উপস্থিতিও আমরা সেখানে দেখতে পাইনি। হামলার পর আবার ১২ মার্চ পুলিশ সেই আহতদের নামে, ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৭০–৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এজাহার দায়ের করেছে।’

এতে বলা হয়, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান রিচার্ড ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তার নামে মামলা দেয়া হয়েছে। ডিবি পুলিশ তার বাসায় গিয়ে এ মামলায় তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছিল। ফেসবুকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ তাকে কিছু দূর নিয়ে এসে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেয়।

বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিভিত্তিক আন্দোলন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকের আন্দোলন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশকৃত সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে পুলিশের যে আক্রমণ দেখা গেছে, তা হাসিনা আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কতিপয় চিহ্নিত গোষ্ঠী যখন দেশের লেখক, শিক্ষক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, হত্যার হুমকি দিচ্ছে, মব সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তখন পুলিশসহ সরকারি প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আমরা সরকারের এ ভূমিকায় বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।’

বিবৃতিটিতে স্বাক্ষর করেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক স্বপন আদনান, অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, অধ্যাপক রায়হান রাইন, সৈয়দ নিজার, রুশাদ ফরিদী, রাজনৈতিক কর্মী হাসনাত কাইয়ুম, দৈনিক সমকালের নির্বাহী সম্পাদক আবু সাঈদ খান, অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তুহিন খান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, আইনজীবী মানজুর আল মতিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জি এইচ হাবীব, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম প্রমুখ।