প্রায় ১৫০ বছরেরও পুরনো ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার জনসংখ্যা তিন লাখের কাছাকাছি। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও বেশির ভাগ সড়ক ভাঙা। পয়োনিষ্কাশনের ড্রেনগুলোও জরাজীর্ণ। সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। কিছু সড়ক সংস্কার করা হলেও তাতেও ধীরগতির কারণে ভোগান্তি আরো বেড়েছে বলে দাবি করেছেন পৌরসভার বাসিন্দারা। বেহাল এসব সড়ক দ্রুতই সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বৃষ্টি হলে ড্রেনের নোংরা পানি বাসাবাড়ি ঢুকে পড়ে। কোথাও রাস্তাজুড়ে খানাখন্দে জমে থাকে বৃষ্টির পানি। আবার কোথাও পুরো রাস্তাই কাঁচা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বেশির ভাগ সড়কই এখন চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে পৌর এলাকার ভাদুঘর বাজার রোড, মাহবুবুল হুদা সড়ক, ফুলবাড়িয়া সড়ক, কে দাসের মোড় থেকে আনন্দ বাজার পর্যন্ত, পশ্চিম মেড্ডা, ট্যাংকের পাড়, নয়নপুর ছাড়াও বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে থাকায় যানবাহন চালক ও পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। ড্রেনগুলোয় আবর্জনা জমে থাকায় পানি নিষ্কাশন হয় না। এজন্য বৃষ্টির পানি সড়কে জমে থাকে দিনের পর দিন। এক পর্যায়ে তা ঢুকে পড়ে বাড়িঘরে। নোংরা পানির স্পর্শে পৌরসভার বাসিন্দাদের দেখা দিয়েছে চর্মরোগ।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৮৬৮ সালে যাত্রা শুরু ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার। ১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো পৌরসভাটির জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভাটির কাঁচা-পাকা মিলিয়ে ২৫৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে।

সড়ক দিয়ে চলাচলকারী গাড়িচালক ও যাত্রীরা জানান, সংস্কারের অভাবে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী আনা-নেয়ার সময় দুর্ভোগের সীমা থাকে না। ভাঙা রাস্তাঘাটের কারণে প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের বেশকিছু সড়ক এরই মধ্যেই সংস্কার করা হয়েছে। বাকি সড়কগুলোর সংস্কার কার্যক্রম চলমান।

তবে সংস্কারকাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, শিগগিরই নাগরিকদের দুর্ভোগ নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হবে।