মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে আজ শুরু হচ্ছে  নয় দিনব্যাপী মধুমেলা। এ উপলক্ষে সাগরদাঁড়িকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মধুভক্তের উপস্থিতিতে এবারো মুখর হয়ে উঠবে কপোতাক্ষ নদের পাড়। কবির জন্মভূমির স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের পাড়, জমিদারবাড়ির আম্রকানন, বুড়ো কাঠবাদাম গাছতলা, বিদায় ঘাট, মধুপল্লীসহ মেলা প্রাঙ্গণে এরই মধ্যে ভক্তের পদচারণ শুরু হয়েছে। 

মেলা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। আজ শুরু হয়ে মেলা চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিকালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে মধুমেলার উদ্বোধন করবেন। 

সরজমিন সাগরদাঁড়ি ঘুরে দেখা যায়, এবারের মেলা ঘিরে সবার মধ্যে একধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন প্যান্ডেলসহ শিশু বিনোদনের সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্থানীয় দোকানিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজাচ্ছেন। যশোর শহরসহ কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মধুমেলার ফেস্টুন টাঙানোসহ প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। দর্শনার্থী বিনোদনে মধুমঞ্চে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্যান্ডেলে সার্কাস, জাদু প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকছে। রয়েছে শিশুদের জন্য নাগরদোলাসহ নানা আয়োজন। আরো থাকছে কুটির শিল্পসহ গ্রামীণ পসরা। 

মধুমেলা শুরুর আগেই মেলা প্রাঙ্গণের প্রস্তুতি দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে এসে জড়ো হয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। স্থানীয় আলোকচিত্র শিল্পী মুফতি তাহেরুজ্জামান তাছু বলেন, ‘মধুমেলা উপভোগের জন্য এরই মধ্যে সাগরদাঁড়িসহ চারপাশের গ্রামে গ্রামে আত্মীয়স্বজন আসতে শুরু করেছে। অনেকেই মেয়েজামাই, বন্ধু-বান্ধবসহ অতিথিদের দাওয়াত দিয়েছেন। প্রতিটি বাড়িতে উৎসব উৎসব আমেজ। এবারের মেলায় লাখো দর্শনার্থী ও মধুপ্রেমীর সমাগম ঘটবে।’