বৈষম্য নিরসনসহ ২১ দফা দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ওষুধ কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল সকাল ৭টায় উপজেলার সূত্রাপুরে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় বিভিন্ন দাবি জানিয়ে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে কয়েক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বৈষম্য করে আসছে। এসব বৈষম্যের প্রতিবাদ এবং ২১ দফা দাবিতে তারা আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা করেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল ভোর থেকেই শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেন। পরে সকাল ৭টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস চলাকালীন এবং অফিসে যাতায়াতের সময় যদি কোনো কর্মী দুর্ঘটনার শিকার হন তাহলে তার সম্পূর্ণ চিকিৎসার খরচ কোম্পানি বহন করবে। একই সঙ্গে ওই কর্মীকে এককালীন আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারখানার এজিএম সুরজিৎ মুখার্জি এবং প্রডাকশন সিনিয়র মানবসম্পদ বিভাগের ম্যানেজার দিপালক কর্মকার, সিনিয়র ম্যানেজার জাহিদুর রহমান, মানবসম্পদ কর্মকর্তা সাম্মি আক্তার ও রুহুল আমিনকে পদত্যাগ করতে হবে। ছুটির জন্য হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। নন-ম্যানেজমেন্ট কর্মীদের সঙ্গে সর্বদা সহনশীল সদাচরণ করতে হবে। বৈষম্যবিরোধী শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের কোনো কর্মীকে পরবর্তী সময়ে হয়রানি বা চাকরিচ্যুত করা যাবে না। কোনো প্রকার বৈষম্যমূলক এবং অপমানজনক আচরণ করা যাবে না। এছাড়া কর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের উত্তম আচরণ করতে হবে। প্রতি দুই বছর পর পর স্থায়ী কর্মীদের গ্রেড উন্নয়ন করতে হবে। নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করতে হবে। সঙ্গে ছুটিকালীন সম্পূর্ণ বেতন এবং ভাতা দিতে হবে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, কারখানার শ্রমিকরা ২১ দফা দাবি জানিয়ে সকাল থেকে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। পরে সেনাবাহিনী ও শিল্প পুলিশ তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিলে সকাল ১০টার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।










