রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা ও সড়কে গত কয়েকদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুর ধরার অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভারতের মিজোরাম থেকে আসা কুকি সম্প্রদায়ের শিকারিরা এগুলো ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকের পালিত কুকুরও নিয়ে যাচ্ছে তারা। গতকাল জেলা শহরের কয়েকটি এলাকা থেকে কুকুর ধরার সময় তাদের পিছু নেয় স্থানীয় কিছু তরুণ-তরুণী। পরে রিজার্ভবাজার চেঙ্গীমুখ (নাপ্পি ঘাটা) এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বাঁশের তৈরি বিশেষ ধরনের ফাঁদ দিয়ে কুকুরগুলো বেঁধে রাখা হয়েছে।
বিষয়টি জানাজানির পর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেলী রুদ্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতেই কুকুরগুলো উদ্ধার করে ওই তরুণ-তরুণীরা। এ কাজে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, মিজোরাম থেকে আসা কুকি সম্প্রদায়ের এসব শিকারি দুই-তিনদিন ধরে রাঙ্গামাটি শহর থেকে কুকুর ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে আমরা তাদের অনুসরণ করি এবং রিজার্ভবাজার চেঙ্গীমুখ এলাকায় যাই। সেখানে তখন চারজন কুকুর শিকারি ছিল। চেঙ্গীমুখে একটি নৌকায় ২০টি কুকুর ছিল। আমরা প্রশাসনসহ বিভিন্নজনকে বিষয়টি জানানোর পর জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে যান। তার উপস্থিতিতে আমরা কুকুরগুলো উদ্ধার করে জেলা শহরের রাজবাড়ী, কলেজ গেট, কল্যাণপুর ও ভেদভেদি এলাকায় ছেড়ে দিই। চার-পাঁচ মাস আগেও তারা রাঙ্গামাটি শহর থেকে সাতটি কুকুর ধরেছিল। তখনো স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে সেগুলো ছেড়ে দিয়েছে। এর পরও আবার একই কাজ করতে এসেছে।’
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেলী রুদ্র বলেন, ‘শহর থেকে কুকুর ধরে রিজার্ভবাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেখানে গিয়ে কুকুরগুলো ছেড়ে দিয়েছি।’
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত জেলার বরকল উপজেলা হয়ে ভারতের মিজোরাম থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে রাঙ্গামাটি শহরে কুকুর ধরতে আসে এসব শিকারি। এর আগে ২০১৯ ও ২০২১ সালেও খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে এমন ঘটনা ঘটে।
প্রাণী কল্যাণ আইনে মালিকবিহীন প্রাণী নিধন বা অপসারণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আইনে উল্লেখিত কোনো কারণ ব্যতীত মালিকবিহীন কোনো প্রাণী নিধন বা অপসারণ করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি মালিকবিহীন প্রাণী হত্যা করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।










