উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকালের এ বৈঠকে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ মনে করে, এটি একটি ‘স্মরণীয় নির্বাচন’ হয়ে থাকবে।
গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সাংবাদিকদের তুলে ধরেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
নির্বাচন নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘ক্যাবিনেট অবজারভ করে যেটি প্রধান উপদেষ্টা প্রথম দিকেই বলেছিলেন যে ইতিহাসের এটি একটি সেরা নির্বাচন হবে এবং সেটাই হয়েছে। এটি একটি স্মরণীয় নির্বাচন হয়ে থাকবে।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
শফিকুল আলম বলেন, ‘আজকের (রোববার) বৈঠকের প্রথম এজেন্ডা ছিল সফল ও ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানান। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।’
প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে উপদেষ্টারা এবারের নির্বাচন আয়োজনকে ‘মহা সাফল্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ১৭টি কেন্দ্র সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। ভবিষ্যতে বডি ওর্ন ক্যামেরা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।’
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও দৃঢ় ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ও আইআরআই নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বলে জানানো হয়। নারী ও তরুণ ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকেও ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এছাড়া সদ্য পদত্যাগকারী সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে এ জাতিকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’










