বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সফলতার জন্য সদস্য দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার যুগ পূর্তির উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিমসটেককে সফল করার জন্য দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনার মধ্যে পড়ে থাকা কোনোভাবে ঠিক হবে না; বরং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পৃক্ততার পরিধি বাড়াতে হবে। সার্ক ও বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলো আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র কূটনৈতিক উপায় হিসেবে কাজ করতে পারে।’
২০২৭ সালে বাংলাদেশে আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে বিমসটেকের অতীত অগ্রগতি পর্যালোচনা, নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং অভিন্ন আঞ্চলিক এজেন্ডার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার আশা করছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাজ হলো “অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করা”। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এভাবে কাজ করা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় জরুরি হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিচ্ছিন্ন সরবরাহ শৃঙ্খল, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, সাইবার হুমকি, আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ এবং মানবিক চ্যালেঞ্জ কোনো দেশীয় সীমান্ত মানে না। সে কারণে কোনো দেশ এককভাবে এগুলো কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে পারে না। এ কারণে শক্তিশালী বিমসটেক কেবল সাধারণ কোনো আকাঙ্ক্ষা নয়, এটি আমাদের অঞ্চলের শান্তি, ভারসাম্য ও সমৃদ্ধির জন্য কৌশলগত প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে বলেন, ‘নিজেদের দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডার মধ্যেও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার ও বিস্তৃত করতে বিমসটেক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ঢাকায় বিমসটেক দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, অন্যান্য দেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে বিমসটেক সচিবালয় এ উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।










