কাস্টমস
আইন ২০২৩-এর ১৭১ ধারায় আমদানি করা পণ্যের এইচএস কোড ভুল হলে ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ জরিমানার
বিধান করা হয়েছে। সেটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের তিনটি শীর্ষ সংগঠন
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএ। ভুলের জন্য অতি উচ্চ হারে মাশুল নেয়া কোনোভাবেই যুক্তিসংগত
নয় উল্লেখ করে নতুন কাস্টমস আইন বাস্তবায়নের আগে সব অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান
জানিয়েছে তারা।
শনিবার
(৮ জুন) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ সেন্টারে আয়োজিত ‘বাজেট প্রতিক্রিয়ায়’
এ আহ্বান জানান ব্যবসায়ীদের শীর্ষ তিনটি সংগঠনের সভাপতিরা। এদিন উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ
পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি এস এম মান্নান কচি, বাংলাদেশ
নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী
সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) মোহাম্মদ আলী খোকনসহ তিনটি সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের
নেতারা।
এইচএস
কোডের পূর্ণরূপ হচ্ছে, হারমোনাইজড কমোডিটি ডেসক্রিপশান অ্যান্ড কোডিং সিস্টেম। এর মাধ্যমে
একটি পণ্যকে সুনিদ্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়। পণ্য চিহ্নিত করণের এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত
কোড ভুল হওয়াকে অতি স্বাভাবিক ঘটনা দাবি করেন ব্যবসায়ীরা বলেন, ভুল যেকোনো দিক থেকেই
হতে পারে। কখনো কখনো ক্রেতারা ভুল করেন, কখনো কখনো বিক্রেতাদের দিক থেকে ভুল হয়। বিশাল
কর্মযজ্ঞে সব কিছু শতভাগ নির্ভুল না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এমন সামান্য ভুলের জন্য
২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত কর আদায়ের বিধান যুক্তিযুক্ত হতে পারে না।
কালো
টাকা সাদা করার সুযোগ ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে দেয়া হয়েছে মর্মে বাজেট পরবর্তী
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্য উল্লেখ করে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমইএ সভাপতি একযোগে দ্বিমত পোষণ করেন। তারা বলেন, এ বিষয়ে
আমরা ঘোর বিরোধী। আমরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানকে
বলিনি। এমনকি আমরা এখনো চাই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ শতভাগ বন্ধ হোক। কারণ এ সুযোগ
থাকলে যারা সৎ ব্যবসায়ী তারা নিরুৎসাহী হন। একই সঙ্গে কালো টাকার মালিকদের সঙ্গে অসম
প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়। যেটি স্বাভাবিক ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য নেতিবাচক।
বাজেটে
ব্যবসায়ীদের দাবি কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি দাবি করে লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মান্নান কচি বলেন,
বাজেট বক্তব্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের এই প্রধান
খাতটির (পোশাক খাত) জন্য কিছু নীতি সহায়তার প্রস্তাব দেয়া হলেও বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি
মোকাবেলা করার জন্য আমাদের মূল প্রস্তাবগুলো বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। পোশাক শিল্পে পণ্যের
দরপতন হয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় পাঁচ বছরে দফায় দফায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে শিল্প একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি
বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল বাজেটে পোশাক শিল্পের জন্য সহায়ক কিছু নীতি সহায়তা থাকবে।
বিশেষ করে উৎসে কর দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং এটিকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য
করার বিষয়ে আমাদের গভীর প্রত্যাশা ছিল এবং আছে। এছাড়া ইনসেনটিভের ওপর আয়কর অব্যাহতি,
শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ভ্যাটমুক্ত রাখা, এইচএস কোড ও ওজন সংক্রান্ত
জটিলতা নিরসন করা, ইআরকিউয়ের ওপর আয়কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, অগ্নি ও নিরাপত্তা
সরঞ্জাম পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে আমদানির উপর কর রেয়াত, পোশাক শিল্পের ঝুটের ওপর ৭ দশমিক
৫ শতাংশ ভ্যাট ও রিসাইকেল ফাইবার সরবরাহের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার ইত্যাদি প্রস্তাব
বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। এটা আমাদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক।
বিকেএমইএ
সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রফতানির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) যদি দিতে হয়, তাহলে
সেটি ১ থেকে দশমিক ৫ শতাংশ করার দাবি জানাই। এজন্য অবশ্যই রিটার্ন এবং সমন্বয়ের দরকার
আছে। এটা করার জন্য সরকারের কাছে আমরা অনুরোধ জানাই। নগদ সহায়তা প্রত্যাহার করা হলে
আমরা অবশ্যই চাপে পড়ব। তাই আমরা সরকারের কাছে সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।
বিটিএমএ
সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, শিল্পাঞ্চলের বাইরে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ ও ব্যাংক ঋণ
না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, সেটি প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের জন্য প্রতিবন্ধকতা
তৈরি করবে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জে কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। আবার প্রশাসন থেকে
সবাইকে ঠিকমতো বেতন-ভাতা দিতে বলা হয়েছে। আপনি যদি গাড়িতে তেল না দিয়ে ড্রাইভারকে চাবুক
মারেন-গাড়ি চালাও, এটা সম্ভব না। আমি গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।










