ব্যবসায়িক কর্মকান্ড সফলভাবে পরিচালনার জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক, ভ্যাট এবং আয়কর আইনের পরিবর্তন সম্পর্কে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে ডিসিসিআই আয়োজিত ‘শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আয়কর ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক ওয়ার্কশপ শনিবার (১৩ জুলাই) আয়োজিত হয়েছে।
উক্ত ওয়ার্কশপে আয়কর ব্যবস্থাপনা, ভ্যাট এবং শুল্কের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে ডিসিসিআই এর শুল্ক, ভ্যাট অ্যান্ড ট্যাক্সেশন বিষয়ক স্যান্ডিং কমিটির উপদেষ্টা স্নেহাশীষ বড়ুয়া, এফসিএ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর কমিশনার (কাস্টমস্, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা-দক্ষিণ) মো. জাকির হোসেন এবং দি ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এর সহ-সভাপতি এম বি এম লুৎফুল হাদি, এফসিএ।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বার সভাপতি আশরাফ আহমেদ ব্যবসা-বাণিজ্যে কমপ্লায়েন্সর উন্নয়নে দেশের কর ব্যবস্থাকে পুর্ণাঙ্গরূপে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানান। যার মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকেও সহজ করবে। বিশেষ করে, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহের মান সম্পন্ন হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে কর নিরূপন করা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন। একই সাথে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কমপ্লায়েন্স মেনে চলা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসমূহে পুরষ্কৃত করার আহ্বান জানান আশরাফ আহমেদ।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার অটোমেশনের মাধ্যমে বিদ্যমান বৈষম্য ও ঘাটতি নিরসন করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাজস্ব কাঠামো করজাল সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি কর প্রদানকারীদের হয়রানিমূলক সেবা নিশ্চিত করবে। বিদ্যমান ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক আইনে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, এগুলো ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
ভ্যাট বিষয়ক মূল প্রবন্ধে এনবিআর এর কমিশনার মো. জাকির হোসেন বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে মৌলিক কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে এনবিআরের ওয়ার্কিং প্রসিডিরের ক্ষেত্রে দুটো পরিবর্তন আনয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সার্বিক ভাবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ সব শ্রেণীর করদাতার উপর কিছুটা হলেও চাপ বাড়বে। বিদ্যমান ভ্যাট আইনের রেয়াত প্রাপ্তির লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের ভ্যাট আইনটি আরো ভালো ভাবে জানার ও প্রয়োগের উপর তিনি জোরারোপ করেন।
আয়কর বিষয়ক মূলপ্রবন্ধে স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, চলতি অর্থবছরের এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। তিনি আরো বলেন, দেশের শিল্পায়নের পাশাপাশি অর্থনীতিকে বেগবান করতে আমদানি শুল্ক কমাতে হবে। যার প্রভাব পড়বে আয়কর ও ভ্যাটের উপর। দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি একটি সহনশীল রাজস্ব ব্যবস্থার নিশ্চিতকরনের উপর জোরারোপ করেন।
শুল্ক বিষয়ক মূল প্রবন্ধে এম বি এম লুৎফুল হাদি বলেন, ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন শুল্ক আইন প্রবর্তন করা হয়েছে এবং আইনটি যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ঢাকা চেম্বারের সদস্যভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০ জন প্রতিনিধি উক্ত ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে যোগদান করে রাজস্ব ব্যবস্থার সহজীকরণের উপর জোরারোপ করেন। যা সরকারকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে বলে অভিমত জ্ঞাপন করেন।
ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মোঃ জুনায়েদ ইবনে আলী, পরিচালক কামরুল হাসান তুহিন এবং এম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। -বিজ্ঞপ্তি










