ব্যবসা শুরুর দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে নতুন উদ্যোক্তারা আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই ‘প্রভিশনাল লাইসেন্স’ বা ‘সাময়িক অনুমোদন’ পাবেন, ফলে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আর ব্যবসা শুরুতে বিলম্ব হবে না।

আজ বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং ও গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ এক্সিবিশন ২০২৬' এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলোজি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে চারদিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন এক্সিবিশনের কনভেনর ফজলে শামীম এহসান। এছাড়াও বক্তব্য দেন ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর স্পেন্সার লিন এবং অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন বিকেএমইএ'র ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) মোর্শেদ সরোয়ার সোহেল।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে একটি নতুন শিল্প বা ব্যবসা চালু করতে গড়ে ২৫-২৬টি লাইসেন্স ও ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়, যা পেতে অনেক ক্ষেত্রে মাস থেকে বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এ প্রক্রিয়াগত জটিলতা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। এ বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রভিশনাল লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রভিশনাল লাইসেন্সের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীরা কারখানা স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ ও উৎপাদন প্রস্তুতির কাজ শুরু করতে পারবেন। উদ্যোক্তারা যেন আবেদন করেই কাজ শুরু করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।

শিল্পখাতের বিদ্যমান সংকট তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৩-১৪ শতাংশের মতো উচ্চ সুদের হার শ্রমঘন শিল্প, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের জন্য বড় বাধা। এ ধরনের ডাবল ডিজিট সুদের হার দিয়ে কম মুনাফার শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন। সরকার ধীরে ধীরে সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ে এবং বিদ্যমান শিল্পগুলো টিকে থাকতে পারে।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আজকের এ মেলায় প্রায় ১৮০০টি স্টলে প্রায় ৯০০টির মতো প্রতিষ্ঠান তাদের সামগ্রী প্রদর্শন করছে। এখানে টেক্সটাইল জগতের বিশ্বের সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং এআই সমৃদ্ধ লেটেস্ট টেকনোলজি এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে। আমাদের উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ, যাতে তারা দেখতে পারেন লেটেস্ট টেকনোলজি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে এবং আমরা সেগুলোকে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কতটুকু ব্যবহার করতে পারছি।

আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, সামনে আমাদের জাতীয় বাজেট হতে যাচ্ছে। আমাদের সেক্টরের সমস্যাগুলো মন্ত্রী সবই জানেন। আমি অনুরোধ করব বাজেটে যেন আমাদের এ সমস্যাগুলোর যথাযথ সমাধান থাকে।

এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ২৮টি দেশের ৯০০ প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছেন। কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বাধুনিক পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।