রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক তিন মামলায় পঞ্চম দিনে আরও তিন জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সোমবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ মো. রবিউল আলমের আদালত তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আদালত।

ওই তিন সাক্ষী হলেন– সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার গৌতম কুমার সিকদার, গণভবন শাখার পিন্সিপাল অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম ও ক্যাশ শাখার সিনিয়র অফিসার রিয়াদ মাহমুদ।

দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মঈনুল হাসান লিপন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আজ তিনটি মামলায় তিন জন সাক্ষী ৯টি সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীরা সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা। তারা আদালতে পূর্বাঞ্চলের নতুন শহর প্রকল্পের প্লট বরাদ্দে সোনালী ব্যাংকের পে অর্ডারে টাকা জমার রেকর্ডপত্র উপস্থাপন করেন।

চলতি বছরের ৩১ জুলাই এসব মামলায় চার্জগঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন আদালত। চার্জগঠন শুনানির সময়ে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পৃথক তিন মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৭ জন; শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ১৮ এবং শেখ হাসিনা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। ১৩ আগস্ট এ মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়।

মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন– জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।