চলতি বোরো মৌসুমে কৃষক ও অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ছয় লাখ টন ধান ও সাড়ে ১১ লাখ টন চাল (আতপ ও সেদ্ধ) কিনবে সরকার। ফলে সাড়ে ১৭ লাখ টন ধান-চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দুই লাখ টন বেশি। অন্যদিকে ২৮ টাকা দরে প্রায় ৭৫ হাজার টন গম কেনা হবে। সংগ্রহের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, মিলারদের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন চাল ও ৩৫ টাকা কেজি দরে দেড় লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কেনা হবে। গতবারের তুলনায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ টন বাড়ানো হয়েছে। বোরো ধান ২৬ এপ্রিল ও চাল আগামী ৭ মে সংগ্রহ শুরু হবে। সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ১৫ এপ্রিল গম সংগ্রহ শুরু হয়ে চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

বোরো সংগ্রহের এ লক্ষ্যমাত্রা ও দাম নির্ধারণ করে ২ এপ্রিল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারি খাদ্যগুদামে মজুদ গড়ে তোলার জন্য খাদ্যশস্য সংগ্রহের কাজ খাদ্য অধিদপ্তরই করে। সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় অংশটিই আসে বোরো থেকে।

জানা গেছে, গত বোরো মৌসুমে ৪ লাখ টন ধান, ১০ লাখ টন সেদ্ধ চাল ও দেড় লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে সাড়ে ১৫ লাখ টন সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে খাদ্য অধিদপ্তর। তবে ধান ও চালের সংগ্রহ মূল্য বাড়ানো হয়নি। চলতি মৌসুম ও গত মৌসুমের দাম একই ছিল। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি তাদের চাল বিক্রিতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। সে বিষয়গুলো বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতি বছর বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে ধান-চাল ক্রয় ও এর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ কমিটিতে অর্থ, বাণিজ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত খাদ্যমন্ত্রী পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়ে দেন। কিন্তু এবার নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিজেদের ওয়েবসাইটে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বোরো মৌসুমের ধান-চাল ক্রয়ের তথ্যটি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বণিক বার্তাকে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকটি করতে পারিনি। তবে ডিজিটাল মাধ্যমে সবার কাছ থেকে মতামত নেয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী সময়ে যদি কোনো মতামত আসে, সেটিও গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে, কৃষকের শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিপণনে সহায়তা করতে হবে। সেটি আমরা পালনে দুর্যোগের মধ্যে কাজ করে যাব। সামাজিক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কৃষকের কাছ ধান-চাল সংগ্রহ করা হবে। বোরো মৌসুমে সংগ্রহটা ঠিকমতো করতে পারলে আমাদের মজুদ আরো বেশি শক্তিশালী করতে পারব। গত আমন মৌসুমের মতো এবারো কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হবে। এজন্য গত বোরো মৌসুমের চেয়ে দুই লাখ টন ধান বেশি কেনা হবে।