রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আরিফুল ইসলাম নামে এক জাপান প্রবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ১/এ নাম্বার বাসার ২ নাম্বার রোডের সি --ব্লকের ২০৩ নাম্বার ফ্ল্যাট থেকে বসুন্ধরা আবাসিকের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কানাডা প্রবাসী পারভীন নামের এক নারীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নেন আরিফুল। বাসাটি থেকে পাওয়া যায় নোটারী করা বিয়ের হলফনামা ও হাতে লেখা চিরকুট। চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘ আমার জীবনের শান্তি নষ্ট করে দিছে এই রেপিস্ট। ব্ল্যাকমেলার সে। তার নিজের ইচ্ছায় আমার হাতে ধরা দিছে। নিজের হাতে এ রেপিস্ট ব্ল্যাকমেলারকে মেরে শান্তি নিলাম।’

পরিবারের দাবি, আরিফুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৭ মে বিকেল ৪টা ৯ মিনিটে আরিফুল ইসলাম ও পারভীন আক্তার একসঙ্গে ওই অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। এরপর ১৮ মে ভোর ৬টা ৩১ মিনিটে বাসা থেকে একা বেরিয়ে যান পারভিন।

জানা গেছে, আরিফুল জাপান প্রবাসী, আর পারভীন থাকেন কানাডায়। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মাটি প্রপার্টিস নামের একটি ভবনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া নেন তারা। ১৫ দিন পর শনিবার আরিফুলের মরদেহ মিলল ওই ফ্ল্যাটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরিফুলের পরিবারের এক সদস্য বলেন, পারভীনের সঙ্গে আরিফুলের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। তবে বাংলাদেশে যাওয়া ও বিয়ের বিষয়টি পরিবার জানত না। জাপান থেকে আরিফুলের স্ত্রী আয়েশার ফোন পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজন কুমার সাহা বলেন, আরিফুলের বুক ও গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডি। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

এদিকে, প্রযুক্তির সহায়তায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পারভীনের সবশেষ অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। হত্যার পর পারভীন কানাডায় ফিরে গেছেন বলে ধারণা তাদের।