বেইজিংয়ে গতকাল দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতেও দুই দেশ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বৈঠক শেষে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে বেইজিং সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশই বিআরআই সহযোগিতা আরো জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এর আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বাংলাদেশ তার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের দীর্ঘদিনের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। চীন জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে ঢাকা ও নেপিডোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় তারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এছাড়া বৈঠকে পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি, উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় এবং চীন-বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব আরো এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে একমত হয় দুই দেশ।
যৌথ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, উভয় পক্ষ জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্রায়ণ এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা এবং সবার জন্য উপকারী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত চার দফা উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশ।
আতিথেয়তার জন্য চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সুবিধাজনক সময়ে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান।










