‘সৃজনে শুদ্ধতা, সাহিত্যে উৎকর্ষ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’ বার্ষিক সাহিত্য উৎসব ২০২৬। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন হলরুমে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। উদ্বোধন করেন সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক আহমেদ জসিম। সভাপতিত্ব করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও লেখক ডা. সাগর খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউদ্দিন স্টালিন কবি-সাহিত্যিকদের বেশি করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিকের লেখা পড়ার আহ্বান জানান। নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আল মাহমুদসহ বরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের সাহিত্য থেকে শিক্ষা নিয়ে তা জাতীয় জীবনে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথি তারিক মনজুর বলেন, সাধারণ মানুষের মননশীলতার বিকাশে সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কবি ও সাহিত্যিকদের কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ থাকা উচিত নয়।

বিশেষ অতিথি সামসাদ ফেরদৌসী বলেন, পাঠকের কাছে কবিতা ও সাহিত্যকর্ম পৌঁছে দিতে পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকী, সাহিত্য সংগঠন, সম্পাদক, প্রকাশক ও গণমাধ্যমকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

কবি রমজান মাহমুদ বলেন, লেখালেখি একটি নিরন্তর সাধনার বিষয়। ভালো লিখতে হলে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি সাহিত্যের বিভিন্ন প্রকরণ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।

সাহিত্যিক অমল সাহা প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাহিত্যকে এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে নয়, বরং প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়েই সাহিত্যচর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে।

দিনব্যাপী আয়োজনে কবিতা পাঠ, গল্প পাঠ, সাহিত্য আলোচনা, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং লেখক-পাঠক মতবিনিময়সহ বিভিন্ন পর্ব ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার পাশাপাশি কবি-সাহিত্যিকরা নিজেদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনকে নিয়ে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তফা জামাল চৌধুরী। তার আবৃত্তি করা কবিতায় পৃথিবীর সব বিভেদ, দুঃখ ও কষ্টের অবসানের প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়।

বিশেষ অতিথি শামীম নূর মুন্নি বলেন, বর্তমান সময়ে সাহিত্য অনেকটাই অবহেলিত এবং সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতাও প্রত্যাশিত মাত্রায় নেই। এ ধরনের উদ্যোগ সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উৎসবে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর কৌশলগত কাঠামো (স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক) উপস্থাপন করা হয়। এতে সংগঠনের ভিশন, মিশন, লক্ষ্য, সাংগঠনিক কাঠামো ও পাঁচ বছরমেয়াদি রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়।

উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জুয়েল হাজারী জানান, দেশ-বিদেশের অনেক কবি-সাহিত্যিকের সহযোগিতায় উৎসবটি সফল হয়েছে। সারা দেশ থেকে কবি-সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. সাগর খান বলেন, ‘হৃদয়ে সাহিত্য’ শুধু একটি সাহিত্য সংগঠন নয়, এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সাহিত্য আন্দোলন। মানসম্মত সাহিত্যচর্চা, নবীন লেখক তৈরি, পাঠাভ্যাস, প্রকাশনা, গবেষণা ও ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে সাহিত্যের গুণগত মান উন্নয়নে সংগঠনটি কাজ করবে। তিনি স্মরণিকা প্রণয়নে আহ্বায়ক জুয়েল হাজারী, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহনেওয়াজ কবির ইমন এবং যুগ্ম সম্পাদক সুচিত্রা মিলির ভূমিকার প্রশংসা করেন।

২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা ‘হৃদয়ে সাহিত্য’ ভবিষ্যতে সাহিত্যসভা, পাঠচক্র, সৃজনশীল লেখালেখির কর্মশালা, সম্পাদকীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমের মাধ্যমে এর পরিসর আরো বাড়াবে বলে জানান আয়োজকেরা। তাদের লক্ষ্য ‘হৃদয়ে সাহিত্য’কে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একটি স্বীকৃত, বিশ্বাসযোগ্য, সৃজনশীল ও প্রভাবশালী সাহিত্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, যেখানে সাহিত্যমান, সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ সমান গুরুত্ব পাবে।

এ অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল এটিএন বাংলা ও দৈনিক বণিক বার্তা।