১৯৬২ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে চিকিৎসা শুরু করলেও ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু হয় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের। রোগীদের কাছে এটি সদর হাসপাতাল হিসেবে বেশি পরিচিত। ২০০৯ সালে হাসপাতালে যুক্ত করা হয় ২৮ শয্যার করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)। হাসপাতালটিতে যশোর ছাড়াও নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার রোগীও চিকিৎসা নিতে আসছে। ২০২২ সালে সব মিলিয়ে ছয় লক্ষাধিক রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে রয়েছে ১২টি বিভাগ। এগুলো হলো জেনারেল সার্জারি, গাইনি, অর্থোপেডিক, চক্ষু, নাক, কান, গলা, শিশু সার্জারি, দন্ত্য, জরুরি, ইউরোলজি ও চর্ম-যৌন বিভাগ। ২০২২ সালে হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগী ছিলেন ৭৭ হাজার ১৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ রোগী ৩০ হাজার ৬৪৪ জন, নারী ৩৬ হাজার ৭১ ও শিশু ৯ হাজার ৮২০টি। তবে এ সময়ে ভর্তি রোগী মারা গেছে ২ হাজার ৫৭৭ জন। গত এক বছরে বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৩ জন। আর জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা পেয়েছে ১৮ হাজার ২৪৭ রোগী।

একই বছরে হাসপাতালটিতে ৪ হাজার ৪৯২ রোগীর মেজর অপারেশন করা হয়েছে। যার মধ্যে জেনারেল সার্জারি ওয়ার্ডে ৮২৪টি, গাইন ওয়ার্ডে ১ হাজার ৯৪৫টি, অর্থোপেডিক বিভাগে ৭১৮টি, চক্ষু বিভাগে ৩১৪টি, শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ২৩১টি ও ইউরোলজি বিভাগে অপারেশন হয়েছে ১৮টি। তারা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। মাইনর অপারেশন হয়েছে ৩৩ হাজার ২২৫টি। যার মধ্যে পুরুষ রোগী ছিল ১৬ হাজার ৮০১ জন, নারী ৯ হাজার ৭৮৩ ও শিশু রোগী ছিল ৬ হাজার ৬৪১। ২০২১ সালে হাসপাতালটিতে মেজর অপারেশন করা হয় ৩ হাজার ১১৬টি এবং ছোট অপারেশন করা হয়েছিল ২৯ হাজার ৫৪০টি।

এ ব্যাপারে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি। বিশেষ করে রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনদের ভিড় বেশি থাকে। এছাড়া ওষুধ প্রতিনিধি ও কিছু দালালের অবাধ বিচরণ ঠেকাতে পারলে আমরা আরো পরিচ্ছন্ন সেবা দিতে পারতাম। রোগীদের অপারেশন থেকে শুরু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়ে থাকে নির্ভুলভাবে। সক্ষমতার সবকিছু দিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যে কারণে মানুষের ভরসার জায়গা করে নিয়েছে হাসপাতালটি। কেননা জরুরি রোগী ও জটিল রোগের চিকিৎসা এখানে রয়েছে। কিছু চিকিৎসক নিয়ে অভিযোগ আসে মাঝেমধ্যে, তবে সেগুলো সমাধানে আমরা সচেষ্ট।’

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বেশির ভাগ রোগীই সন্তুষ্ট। তবে সব চিকিৎসক সময়মতো হাসপাতালের চেম্বারে থাকলে রোগীরা আরো ভালো চিকিৎসাসেবা পেত বলে মনে করেন তারা। 

শহরের বেজপাড়া মেইন রোডের মুরাদ হোসেন বলেন, ‘আমি সম্প্রতি যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতলে গিয়েছিলাম সার্জারি বিশেষজ্ঞ দেখাতে। কিন্তু সেখানে জুনিয়র চিকিৎসক থাকায় আমার মনমতো চিকিৎসাসেবা পায়নি। যদি সব বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসকরা সময়মতো আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা দেন, তাহলে রোগীরা উপকৃত হতো। মানুষ আস্থা রাখে বলে এ হাসপাতালে ছুটে আসে।’

সদর উপজেলার ভায়না গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি সম্প্রতি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকৎসকের পরামর্শ নিয়েছিলাম। কিছু পরীক্ষা দেয়ায় সেটি করাতে গিয়ে আমি আর চিকিৎসককে পাইনি। পরদিন আবার আমাকে আসতে হয়েছিল। যদি পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত সময়ের মধ্যে পেতাম তাহলে আমাকে পরদিন আসতে হতো না।’

হাসপাতালের চিকিৎসক গোলাম মোর্ত্তুজা বলেন, ‘শুধু যশোর নয়, নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে এ হাসপাতালে রোগী আসে চিকিৎসা নিতে। প্রতিদিন হাজারো রোগী এখান থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালটি ভরসার জায়গায় না থাকলে এত রোগী আসত না। আমরাও সাধ্যমতো রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।’