যশোরের আইটি পার্ক নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। গতকাল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নিজেদের সমস্যা আর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন বিনিয়োগকারীরা।

তারা বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য জ্ঞানভিত্তিক শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্য নিয়ে নির্মাণ হয়েছিল যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। উদ্বোধনের পর মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি হাতছানি দিয়েছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির। এখন সেই আইটি পার্ক বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্ষোভ আর হতাশার নাম। বর্তমানে নানা সংকট সমস্যার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছেন বিনিয়োগকারীরা।’

‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পার্কটির বিনিয়োগকারীদের সংগঠন শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, ‘এটি দেশের প্রথম আইটি পার্ক। ফলে সবকিছুতেই মডেল হতে পারত পার্কটি। কিন্তু সরকার এটিতে সেভাবে মনোযোগ দেয়নি। দেশের প্রথম আইটি পার্কের লক্ষ্য বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন করে এ সেক্টর থেকে বিমুখ হচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। পার্কটিতে লক্ষ্য অনুযায়ী কর্মসংস্থান হয়নি। বিনিয়োগের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’

সংগঠনের সভাপতি আহসান কবীর বলেন, ‘পার্কটিতে টিকে থাকার সংখ্যা কম। পার্কটিতে আইকনিক ভবন রয়েছে। কিন্তু ভবনের ভেতরে যে কার্যক্রম সেটা বিকশিত হচ্ছে না। ভালো ভালো উদ্যোক্তা থাকলেও নানা সমস্যায় আটকে যাচ্ছে তারা। তার পরও এখানকার উদ্যোক্তারা হাল ছাড়ছেন না। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

সভায় প্রধান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরিতে সরকার অনেক কিছুই পরিবর্তন করছে। তারই অংশ হিসেবে যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নানাভাবে অর্থবহ করা হবে। ডিজিটালে দেশকে এগিয়ে নিতে দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ককে আরো কর্মমুখী করতে উদ্যোগ নেবে সরকার।’