দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ এবং চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে তিন ধাপে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৫ জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ, বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টারাও অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিন প্রথম ধাপের বৈঠক বেলা ১১টায় শুরু হয়। এতে অংশ নেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ সাইফুল ইসলাম, ট্রান্সকম লিমিটেডের করপোরেট ফাইন্যান্স পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কাজী জাহিন হাসান, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ এবং ব্র্যাকের সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর আজিজুল হক।
দ্বিতীয় ধাপের বৈঠক শুরু হয় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। এতে অংশ নেন আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের চেয়ারম্যান এস কে শামীম উদ্দিন, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সিইও সাইয়েদ জহুরুল আলম, লাল তীর সিডস লিমিটেডের পরিচালক তাজওয়ার এম আওয়াল এবং প্যারাগন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান।
তৃতীয় ধাপের বৈঠক শুরু হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। এতে অংশ নেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আমিনুল ইসলাম এবং টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার।
বৈঠক প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বড় আকারের খামার প্রয়োজন। এজন্য সরকারী অব্যবহৃত জমি ব্যবহারে সরকারকে প্রস্তাব দেন তারা। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে দ্রুত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভোগ্যপণ্যে দেশকে যেসব ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে কীভাবে দ্রুত এগোনো যায় এবং দেশের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রফতানি বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু, ভুট্টা চাষ ও আমের ফলন বাড়িয়ে রফতানি এবং মসলা উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, দেশের কৃষি, শিল্প এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
চিনি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উৎসাহ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, ফল উৎপাদন, পোল্ট্রি, মৎস্য খাত এবং বীজ (সিড) ব্যবস্থাপনাসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য একটি সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে কৃষিতে একটি বিপ্লব ঘটুক। উৎপাদন বাড়ুক এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরো সহজ ও গতিশীল হোক।
বৈঠকে কৃষি জোনিংয়ের বিষয়টিও উঠে আসে। কোন এলাকায় ধান, কোথায় ফল ও অন্যান্য শস্য উৎপাদন করা যায়, সে অনুযায়ী জোনভিত্তিক পরিকল্পনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি ।
বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন এবং বিনিয়োগে আরো উৎসাহিত করার কথা বলেছেন বলেও জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।
তিনি আরো জানান, সরকার এরই মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) খাতে কর সুবিধা দিয়েছে। পাশাপাশি যমুনা সেতু পারাপারে ইভি যানবাহনের জন্য টোল সুবিধা দেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে আহসান খান চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও শিল্প খাতে বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব হবে।
এর আগে গত ৪ এপ্রিল দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, শিল্প খাতের চ্যালেঞ্জ এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।










