নরসিংদী কারাগার থেকে লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে চারটি এসএমজিসহ ১৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া লুট হওয়া অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জে চারজন ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম। গতকাল কারা মহাপরিদর্শক এএসএম আনিসুল হকের নেতৃত্বে একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত কারাগার পরিদর্শন করে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান, ডিআইজি (প্রিজন) মো. আলতাফ হোসেন, নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

কারাগার পরিদর্শন শেষে এএসএম আনিসুল হক বলেন, ‘কারাগারটি আমি পরিদর্শন করেছি। কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। এখানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একটি সরকারি স্থাপনায় আক্রমণ অনাকাঙ্ক্ষিত। রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা একতাবদ্ধ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সহযোগিতা নিচ্ছি। কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া আসামি ধরতে অভিযানও চলছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবহিত আছেন। এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘হামলাকারীরা নীতিগতভাবে কোনো আন্দোলনকারী নন। তারা দুষ্কৃতকারী, লুটেরা এবং সন্ত্রাসী। তারা লুট করার বস্তু হিসেবে কারাগারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। আমাদের ধারণা, কারাগারের ভেতর কিছু বন্দি ছিল, তারা অপরাধী। তাদের দলে ভেড়ানোই ছিল হামলাকারীদের উদ্দেশ্য। এছাড়া লুট করা অস্ত্র তারা এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে ব্যবহারের চেষ্টা করবে। এসব অপরাধীকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।’

সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে চারটি এসএমজিসহ ১৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ৫৮ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে, তাতে আর কোনো সন্দেহ নেই।’