আশির দশকে নির্মিত ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘসময়ে জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে ময়নাতদন্তের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মর্গের ভেতর একাধিক মরদেহ রাখা সম্ভব হয় না। ফলে একের অধিক হলেই ভবনের সামনের সড়কে মরদেহগুলো জড়ো করে রাখা হয়। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয় মরদেহ নিয়ে আসা পুলিশ ও স্বজনকে।
সরেজমিন শহরের চাঁদকাঠি ব্র্যাকমোড় এলাকায় মর্গে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন নতুন ভবনের কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। পুরনো ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ছোট কক্ষে ময়নাতদন্তের কাজ চলছে। মর্গের পেছনের দিকে রয়েছে গুরুধাম খাল। সেখানে মরদেহের একাংশ ও রক্ত ফেলা হয়, যা থেকে দূষিত হচ্ছে খালের পানি ও এলাকার পরিবেশ।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পুরনো জরাজীর্ণ মর্গের সামনে ২০২০ সালে দুই কক্ষের একটি নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় সে কাজও বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ময়নাতদন্তের জন্য ব্যবহূত ওজন মাপার যন্ত্র, ছুরি ও কুড়ালসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে চাহিদা পাঠানো হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ মিলছে না।
গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে চোরের দল দরজা ভেঙে নতুন এক সেট যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। সেখানে স্ট্রেচারগুলোয় মরিচা ধরে আছে। কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও মরদেহ রাখার হিমাগারের কোনো ব্যবস্থা নেই। মরদেহ রাখার ফ্রিজটি বছরখানেক বিকল।
২০১৭ সালে মর্গে কাজ করা সাবেক ডোম দিলীপ ভক্ত স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে চলে যান। সেই থেকে গত পাঁচ বছর পর্যন্ত পদটি শূন্য রয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরীর পদটি শুরু থেকেই শূন্য। ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনে পলক ডোম মর্গে কাজ করছেন। তাকে কাজে সহায়তা করছেন ভাই অমিত ডোম।
সম্প্রতি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে ৩৬ জনের, পরে আরো পাঁচ যাত্রীর মরদেহের ময়নাতদন্ত হয় এ মর্গে। প্রথম একসঙ্গে ৪১ মরদেহের ময়নাতদন্তের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তারা বণিক বার্তাকে বলেন, মর্গে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সড়কের পাশেই মরদেহগুলো স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়। এ কারণে ওই সময় মর্গের সামনে স্বজনের ভিড় আর দুর্গন্ধে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ঠিকাদার মাহাবুবার রহমান তালুকদার বলেন, নতুন মর্গের কাজ দুই মাসের মধ্যে শেষ করা হবে। ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সমরজিত সিং বলেন, গত সপ্তাহে কিছু বরাদ্দ এসেছে। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সিহাব উদ্দিন বলেন, আমি এ জেলায় নতুন এসেছি। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।









