বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় দুটি ব্যাংকের তিনটি শাখায় হামলা, অস্ত্র ও টাকা লুটের ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রুমায় তিনটি ও থানচি থানায় দুটি মামলা নথিভুক্ত হয়।

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সকালে দায়ের হওয়া মামলাগুলোয় সন্ত্রাসী হামলা, ভীতি প্রদর্শন, অস্ত্র, গুলি ও টাকা লুটের ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী মামলার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ব্যাংক ডাকাতি, সরকারি অস্ত্র, গুলি লুট ও ম্যানেজার অপহরণের ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ ও পেনাল কোড ১৯৮০ এর বিভিন্ন ধারায় রুমায় তিনটি ও থানচি থানায় দুটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল বাড়িয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. সৈকত শাহীন বলেন, রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল বাড়িয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার (৬ এপ্রিল) এলাকা পরিদর্শনে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি রুমা সোনালী ব্যাংক পরিদর্শন করবেন। এছাড়া জেলা সদরে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন।

এদিকে পরপর দুটি গোলাগুলির ঘটনায় থানচি বাজারের ব্যবসায়ীদের কেনাবেচা কমে গেছে। বাজারের তরমুজ বিক্রেতা মোহাম্মদ সাকিব বলেন, গোলাগুলির ঘটনার আগে তিনি ৪০ থেকে ৫০টি তরমুজ বিক্রি করতেন। কিন্তু আজ মাত্র দুটি বিক্রি করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন বাজারে লোকজন নেই। শুঁটকি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মুসা জানালেন একই কথা। তিনি বলেন আগে দৈনিক যা বিক্রি হতো এখন তার চার ভাগের একভাগও নেই।

বান্দরবানের দুই উপজেলায় গত মঙ্গলবার রাতে ১৭ ঘণ্টার মধ্যে দুটি ব্যাংকের তিনটি শাখায় হামলা, অস্ত্র লুট ও অপহরণের ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) রাতে থানচি থানা লক্ষ্য করে গুলি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। পরে গভীর রাতে আলীকদম উপজেলায় পুলিশ ও সেনাদের যৌথ তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তবে বৃহস্পতিবার কারা গুলি চালিয়েছে, এ বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। যদিও এর আগে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাতে বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদরে সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি, ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ এবং পুলিশ ও আনসারের ১৪টি অস্ত্র লুটের ঘটনায় কেএনএফ জড়িত বলে বলা হয়েছিল।