ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সারা দেশে বন্ধ হয়েছে ৩২ হাজার ৯০৬ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার। এর মধ্যে গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত ১২ হাজার ৭৬৩টি টাওয়ারে নেটওয়ার্ক সংযোগ সচল হলেও ২০ হাজার ১৪৩টি টাওয়ারের নেটওয়ার্ক এখনো সচল হয়নি। বর্তমানে ২০ হাজার ১৪৩টি টাওয়ার অচল রয়েছে, যা মোট টাওয়ারের ৩৪ শতাংশ। বৈদ্যুতিক সংযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় টাওয়ার সংযোগ স্বাভাবিক হচ্ছে না। বিটিআরসি ও অপারেটরদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

জানতে চাইলে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রায় সব ক্ষেত্রেই সাইট অচল হওয়ার কারণ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরে আসায় সাইটগুলো সচল হচ্ছে। বিটিআরসির সমন্বয়ের মাধ্যমে টাওয়ার কোম্পানি, বিটিসিএল, আইএসপি অপারেটররা সংযোগ চালু করাতে পুরোদমে কাজ করছে। আমাদের বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের অপ্রতুলতা, ব্যাকআপ হিসেবে থাকা ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া ও জেনারেটরের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়া।’ 

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) জানায়, নেটওয়ার্ক দ্রুত ফিরিয়ে আনতে মোবাইল ফোন অপারেটররা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।

অপারেটররা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় নেটওয়ার্ক সচল রাখা হয়। কিন্তু জেনারেটর ৬-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়। তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অচল হয়ে পড়া টাওয়ারের সংখ্যা আরো বাড়তে থাকবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় গাছ ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ না থাকা এবং ইন্টারনেট কেবলে ক্ষতির কারণে শতাধিক আইএসপি অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।