গতকাল সকালে ইউআইইউ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের (এসওবিই) উদ্যোগে ‘নেক্সাস সেমিনার সিরিজ’-এর দ্বিতীয় পর্ব হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সিনিয়র ইকোনমিস্ট ড. মিনহাজ মাহমুদ। তিনি তার গবেষণার আলোকে তুলে ধরেন যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাব বা ‘দ্বৈত বোঝা’ কেবল জনস্বাস্থ্যই নয়, বরং শ্রমবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গভীর সংকটে ফেলছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এ জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরাঞ্চল, ঘরের বাইরে কর্মরত শ্রমিক, নারী ও প্রবীণদের তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণ করা অর্থনীতির জন্য এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন জরুরি।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল বায়েস ও এডিবির ইকোনমিকস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইমপ্যাক্ট বিভাগের প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট ড. নাজমুল চৌধুরীর অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচকরা জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি স্তরে জলবায়ু-সহনশীলতাকে যুক্ত করার তাগিদ দেন। তারা টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার, ইন্ডাস্ট্রি এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ু বাস্তবতায় জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি স্তরে জলবায়ু-সহনশীলতাকে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন জোরদার করা, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উদীয়মান পরিবেশগত ও কর্মশক্তি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নেক্সাস সেমিনার সিরিজের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, জলবায়ু-সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অর্থবহ একাডেমিক আলোচনা এগিয়ে নেয়ার জন্য এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।| সরকার, ইন্ডাস্ট্রি ও নীতিনির্ধারণী মহল এবং শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্লাটফর্ম হিসেবে নেক্সাস সেমিনার সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’










