রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে কাপ্তাই-আসাম বস্তি সংযোগ সড়ক। একদিকে স্বচ্ছ জলরাশির বিস্তীর্ণ কাপ্তাই হ্রদ। আরেক দিকে ঘন সবুজের উঁচু-নিচু পাহাড়। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে সৌন্দর্য ও নান্দনিকতায় সড়কটি পাহাড়ের পর্যটন শিল্পে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখে আসছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ের সৌন্দর্য দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে পছন্দের শীর্ষে। সাম্প্রতিক সময়ে রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পের যে উত্থান ঘটেছে; তা এ সড়কটি ঘিরেই। আসামবস্তি বাজার থেকে কাপ্তাই উপজেলার সংযোগ সড়ক ঘিরে লাভ পয়েন্ট ভিউ ও বেশকিছু রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। স্থানীয়রা পছন্দের জায়গা হিসেবে সড়কটিকে বেছে নেন।

রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা জানান, বর্তমান সময়ে রাঙ্গামাটির সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় স্থান হলো আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক। পুরো সড়কজুড়েই মুগ্ধতায় ভরা। একদিকে সবুজে ঘেরা পাহাড়। আরেকদিকে স্বচ্ছ জলরাশির কাপ্তাই হ্রদ প্রকৃতিকে ঢেলে সাজিয়েছে। রাঙ্গামাটির পর্যটনে সবচেয়ে উপভোগ্য জায়গা হিসেবে সড়কটির বিকল্প এখন আর নেই।

সড়কের পাশেই রয়েছে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক খোকনেশ্বর ত্রিপুরা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের ভিউটা পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সড়কের পাশে যে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ রয়েছে; তাদের যদি সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে পাহাড়ের অর্থনীতিতেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এককথায় সড়কটি রাঙ্গামাটির জন্য এক ধরনের সম্পদে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে রিসোর্ট-কটেজ গড়ে তোলা থেকে বিরত থেকে স্থানীয় কমিউনিটিকে ইকো-ট্যুরিজমে সম্পৃক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তখন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেয়। ১২ ফুটের এক লেনের সড়কটি ১৮ ফুটের দুই লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। তিনটি দৃষ্টিনন্দন আরসিসি স্ল্যাব সেতুসহ ১৮ কিলোমিটার সড়কটি প্রশস্তকরণে ব্যয় হয় ৪৩ কোটি টাকা। ২০২০ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হয় ২০২৩ সালের জুনে। এরই মধ্যে প্রকল্পটি ভৌগোলিক অবস্থান ও সৌন্দর্যের কারণে বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ডেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।