এ সময় রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত, ১১ জন আহত এবং নৌপথে ছয়টি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও আহত হয়েছে পাঁচজন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত ও ১ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এ তথ্য পেয়েছে। গতকাল সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ক প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৬৭ জন এবং আহত হয়েছে ১৩৭ জন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, নিহত হয় ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও আহত হয় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ১১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১৫ ও আহত হয়েছে ৩৮৭ জন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত বরিশাল বিভাগে, ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছে।
এতে বলা হয়, সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৫৬ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, চারজন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, দুজন সাংবাদিক, দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ছয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে তিনজন পুলিশ সদস্য, তিনজন সেনাসদস্য, একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, দুজন আনসার সদস্য, দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, চারজন শিক্ষক ও পাঁচজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
এ সময় সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত ৬৮৭টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশমিক ৭২ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান ও লরি, ১৫ দশমিক ২৮ বাস, ১৪ দশমিক ২৬ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৪ দশমিক ৮০ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশমিক ৮৭ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা, ৩৩ দশমিক ২৫ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ দশমিক ১৮ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৬ দশমিক ৪৭ বিবিধ কারণে, শূন্য দশমিক ২২ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ১ দশমিক ১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষ ঘটে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৬৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৫ দশমিক ৪৪ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৪৪ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১ দশমিক ১১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণের মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা, সারা দেশে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও নসিমন-করিমন সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলাচল, জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা, সড়কে গাছপালায় অন্ধ বাঁকের সৃষ্টি।
এছাড়া অন্য কারণের মধ্যে রয়েছে মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটি, যানবাহনের ক্রটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো।
দুর্ঘটনার প্রতিরোধে কিছু সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় উন্নত বিশ্বের নীতি ও কৌশল অনুসরণ করা, দক্ষ চালক তৈরির জন্য চালকদের ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা, সিসি ক্যামরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইনের প্রসিকিউশন পদ্ধতি চালু করা, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা।










