ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর দপদপিয়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩ টার দিকে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে লাগা ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে তদন্ত। 

আজ শনিবার সকাল থেকে এ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া। তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম-সচিব তোফায়েল হাসান।

কামাল উদ্দিন বলেন, আজ সকাল ৮টা থেকে ঝালকাঠি ও বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল লঞ্চঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। নদীতে লাফিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে ডুবুরি দল সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করবেন।

যুগ্ম-সচিব তোফায়েল হাসান জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় তার নেতৃত্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৭ সদস্যের তদন্ত দল ঝালকাঠির লঞ্চঘাট এলাকায় এসে আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি পরিদর্শন করেন। লঞ্চের ইঞ্জিন রুমসহ বিভিন্ন কক্ষে তারা তদন্ত চালাচ্ছেন।

তদন্ত চলাকালীন দলটির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী  মো. শাজাহান খান। তিনি বলেন, তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দুর্ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় কেউ দায়ী থাকলে তাদের বিরেুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে উদ্ধার তৎপরতায় থাকা সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার সময় নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন অনেকেই।

আজ শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিখোঁজদের পরিবার তাদের সন্ধানে সুগন্ধার তীরে অপেক্ষায় আছেন। কেউ আবার ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন প্রান্তে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রিয়জনকে। কারো হাতে নিখোঁজদের ছবি। নদীর আশাপাশে বসবাস করা স্থানীয়দের সে ছবি দেখিয়ে খোঁজ করছেন তারা। নদী তীরের মিনিপার্ক, ডিসিপার্ক, লঞ্চঘাট ও ঘটনাস্থল দিয়াকুল এলাকায় ঘুরে ঘুরে নিখোঁজদের খোজ চালাচ্ছেন।

এর আগে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত ৩৬ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও বরগুনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান।